লক্ষ্মীপুরে বাস থেকে নামিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে মারধর ও অপহরণ করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জেলা ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ঝুমুর মোড়ে এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সাথে জড়িত আরও ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম জামাল হোসেন (৩২)। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মজুপুর এলাকার আবু সাঈদের ছেলে এবং জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগী মেজবাহ উদ্দিন হেলাল (৫৩) রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের পূর্ব চর কলাকোপা এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক।

অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইকোনো পরিবহনের একটি বাস থেকে মেজবাহ উদ্দিন হেলালকে জোরপূর্বক নামিয়ে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয়। এরপর তাকে উত্তর তেমুহনী এলাকার লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যানিকেতনের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।

জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের মাধ্যমে ডিবি পুলিশ জানতে পারে যে, ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি ঝুমুর মোড় থেকে ‘ভিপি হেলাল’ নামে এক ব্যক্তিকে বাস থেকে নামিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে উত্তর তেমুহনী এলাকার লিল্লাহ মসজিদসংলগ্ন লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যানিকেতনের মাঠে ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। সেই অভিযান চলাকালীন হেলালকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে জামাল হোসেনকে আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলালকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয় এবং তাকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ বলেন, “জামাল হোসেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। ঘটনাটি তারাও শুনেছেন। এ বিষয়টি তারা তদন্ত করছেন। তদন্তের পর দোষী সাব্যস্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের সময় একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, “এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।”