লক্ষ্মীপুরে ঢাকা থেকে আসা একটি বাস থামিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে অপহরণ করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, একই রাতে যুবলীগের ওই নেতাকে অপহরণ করে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
ভুক্তভোগী যুবলীগ নেতার নাম মেজবাহ উদ্দিন ওরফে হেলাল। তিনি রামগতি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এবং আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি (সহসভাপতি)। মেজবাহ উদ্দিন রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের পূর্ব চর কলাকোপা গ্রামের মৃত সিরাজুল হকের ছেলে। অন্যদিকে, এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদল নেতার নাম মো. জামাল হোসেন (৩২)। তিনি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জামাল হোসেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মজুপুর এলাকার আবু সাঈদের ছেলে।
আজ বুধবার বিকেলে মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় জামাল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জামাল হোসেনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেজবাহ উদ্দিন ইকোনো পরিবহন নামের একটি বাসে করে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসটি যখন লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর মোড়ে পৌঁছায়, তখন ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁকে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে নেয়। এরপর তাঁকে উত্তর তেমুহনী এলাকার লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যানিকেতনের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁকে মারধর করা হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টহল দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযান চালায়। রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সদর উপজেলার উত্তর তেমুহনী এলাকার লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যানিকেতনের মাঠ থেকে মেজবাহ উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়। সেই মুহূর্তে ঘটনাস্থল থেকে জামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাকি ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা হামলাকারী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
আজ বুধবার বেলা তিনটার দিকে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এ সময় একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, “এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।”
এদিকে, লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ জানিয়েছেন, জামাল হোসেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। ঘটনাটি তাঁরাও শুনেছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে তাঁরা তদন্ত করছেন। তিনি আরও জানান, তদন্তের পর দোষী সাব্যস্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।