কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে চাল, মাংস ও সয়াবিন তেলের প্রলোভন দেখিয়ে শ্রমিক, ভিক্ষুক এবং অসচ্ছল মানুষের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন প্রায় ২০০ জন মানুষ।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ওই ব্যক্তি কৌশলে এসব জিনিস সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে দুপুর ২টায় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত স্লিপ নিয়ে গোরস্থানে ফিরে এসে ভুক্তভোগীরা দেখেন, সেখানে ওই ব্যক্তির আর কোনো চিহ্ন নেই।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকালে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে এক ব্যক্তির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এই উপলক্ষ্যে গোরস্থানের কয়েকটি কবর পরিষ্কার করার কাজ চালানো হয় এবং স্থানীয় শ্রমিকদের সেই কাজে নিয়োজিত করা হয়। সেই সাথে সেখানে অবস্থানরত ভিক্ষুক ও অসহায় ব্যক্তিদের চাল, মাংস ও তেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, ওই ব্যক্তি তাদের প্রত্যেককে লাল ও সাদা রঙের একটি করে স্লিপ প্রদান করেন এবং জানান যে, নির্দিষ্ট সময়ে ওই স্লিপ নিয়ে এলে তারা খাদ্যসামগ্রী পাবেন। শুধু তাই নয়, অনেককে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা পাওয়ার প্রলোভনও দেওয়া হয়। আর এই তথাকথিত আবেদনের দোহাই দিয়ে তাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ছবি নিয়ে নেন ওই ব্যক্তি।
খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার তীব্র আশায় অনেক ভুক্তভোগী নিজেদের অথবা তাদের স্বজনদের মোবাইল ফোন ওই ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। কিন্তু দুপুর ২টায় যখন তারা স্লিপ নিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান, তখন সেখানে কাউকে পাননি। তাদের অভিযোগ, সহায়তার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাদের মোবাইল ও ব্যক্তিগত নথিপত্র নিয়ে পালিয়ে গেছেন ওই ব্যক্তি।
গোরস্থানের এক খাদেম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমাদের এক কেজি মাংস, ১০ কেজি চাল ও এক বোতল তেল দেওয়ার কথা বলে। একটি করে স্লিপ দিয়ে আমাদের মোবাইল, সিম ও ভোটার পরিচয়পত্র নিয়ে চলে গেছে। আমরা গরিব মানুষ। সহায়তা দেওয়ার কথা বলে সব নিয়ে চলে গেছে।’
ভুক্তভোগী ফরিদা জানান, ‘বুধবার দুপুর দুইটায় স্লিপ নিয়ে যেতে বলেছিল। চাল, এক কেজি মাংস ও তেল দেওয়ার কথা ছিল। মাংস রান্না করে খেতে বলেছিল, বিক্রি করতে নিষেধ করেছিল। আমরা সেই আশায় ছিলাম। এখন আমাদের মোবাইল ফোন নিয়ে চলে গেছে। আমরা চাই, তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক।’
আরেক ভুক্তভোগী কাশেম বলেন, ‘আমার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, দুই কপি ছবি, মোবাইল ফোন ও সিম নিয়েছে। চাল, মাংস ও তেল দেওয়ার কথা বলে পালিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ভুক্তভোগীদের দাবি, এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন গোরস্থানের শ্রমিক, ভিক্ষুক, অসচ্ছল এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। খাদ্যসহায়তার আশায় তারা তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য ও যোগাযোগের মাধ্যমগুলো একজন অপরিচিত ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছেন।
এই বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন মুক্তকণ্ঠকে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি কথা দেন।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।