লক্ষ্মীপুরের জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কয়েকজন জুয়েলারি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গ্রাহককে দেখানোর বহুনাতে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়া রঞ্জিত পাল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এসময় তার কাছ থেকে চুরি করা স্বর্ণালংকারগুলোও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক মুক্তকণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত সোমবার রাতে রাজধানীর একটি নতুন ভাড়া বাসা থেকে রঞ্জিত পালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের এক জুয়েলার্স ব্যবসায়ী পলাশ চন্দ্র কুরীর দোকানে গিয়ে রঞ্জিত পাল দাবি করেন যে, তার এক ক্রেতার কাছে দেখানোর জন্য কিছু স্বর্ণালংকার প্রয়োজন। বিক্রি শেষে নগদ টাকা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পলাশ চন্দ্রের দোকান থেকে ১০ ভরি সাড়ে চার আনা স্বর্ণালংকার নেন রঞ্জিত। তবে স্বর্ণ হস্তান্তরের পরপরই দোকান বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।
এরপর খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, একই কৌশলে শহরের আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছিলেন রঞ্জিত পাল। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে তিনি উধাও হন। তাকে নিজের বাসা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কোথাও না পেয়ে জেলা জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানায়।
অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রযুক্তিগত সহায়তায় রঞ্জিতের অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকায় অভিযান চালায়। মোবাইল ফোন ফেলে দিয়ে এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ঢাকার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা বাজুসের সাধারণ সম্পাদক পলাশ চন্দ্র কুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "স্বর্ণের ব্যবসা মূলত পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। এ ধরনের প্রতারণা পুরো ব্যবসায়ী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। ভবিষ্যতে অপরিচিত বা সন্দেহজনক কারও সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার জন্য আমরা সব জুয়েলার্স মালিককে অনুরোধ জানিয়েছি।"
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক মুক্তকণ্ঠকে জানান, ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা পুরো ২২ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।