নিকোটিন ভেপিংয়ের অভ্যাস ত্যাগ করেছেন মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ। তবে এই আসক্তির কারণে তাঁর কণ্ঠস্বরের যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়েছে, তা আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন তিনি। নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ভক্তদের সতর্ক করেছেন এই তারকা। বর্তমানে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো, কঠিন প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই ক্ষতিকর অভ্যাসটি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া এবং পুনরায় এতে ফিরে না যাওয়া।
গত ১৮ অক্টোবর, রোববার নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও শেয়ার করেন ৩৪ বছর বয়সী সেলেনা। প্রায় এক মিনিটের সেই ভিডিওতে তিনি কণ্ঠের পরিবর্তন এবং নিকোটিন ছাড়ার কঠিন লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন। ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওতে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমি প্রচুর নিকোটিন ভেপ করেছি।’ নিজের কণ্ঠের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, আগের সেই কণ্ঠ তিনি আর ফিরে পাবেন না বলে মনে করছেন।
এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিকোটিনের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা কতটা কষ্টসাধ্য, তা বোঝাতে চেয়েছেন সেলেনা। যারা বর্তমানে ভেপিং করছেন অথবা এটি শুরু করার কথা ভাবছেন, তাদের প্রতি তাঁর বিশেষ বার্তা—এই অভ্যাসে জড়ানোর কোনো সার্থকতা নেই। নিজের কণ্ঠস্বরের এই পরিবর্তনের জন্য তিনি সরাসরি ভেপিংয়ের অভ্যাসকেই দায়ী করেছেন।
ভিডিওতে শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সেলেনা জানান, তাঁর বর্তমান কণ্ঠের ধরন যদি কারও পছন্দ না হয়, তবে তিনি তা বুঝতে পারবেন এবং কেউ শুনতে না চাইলেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তবে এই ক্ষতিকর অভ্যাসটি ত্যাগ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এখন তাঁর একমাত্র চাওয়া, যেন আর কখনোই এই অভ্যাসে ফিরে যেতে না হয়। একই ধরনের আসক্তির সাথে লড়াই করা ব্যক্তিদের ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তিনি। কণ্ঠের সমস্যা নিয়ে কথা বলা এই তারকার জন্য প্রথমবার নয়; এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও ইনস্টাগ্রাম লাইভে ভক্তদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন তিনি। তবে সে সময় তিনি গলার ভেতরের অংশ মাঝেমধ্যে ফুলে যাওয়ার কথা বললেও ভেপিংয়ের বিষয়টি উল্লেখ করেননি।
ব্যক্তিগত লড়াইয়ের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তার উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছেন সেলেনা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'রেয়ার ইমপ্যাক্ট ফান্ড'-এর চতুর্থ বার্ষিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানটি গত ১৪ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড প্যালাডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। ভোগ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশেষ আয়োজনে প্রায় ৩০ লাখ ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এই তহবিলটি।