জয়পুরহাটের কালাই থানায় ঢুকে কাঠের বাটাম দিয়ে পুলিশের তিন সদস্যকে মারধর ও জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই গুরুতর ঘটনার পর পুলিশের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় এই ঘটনাটি ঘটলেও গতকাল মঙ্গলবার মামলা দায়েরের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম আসলাম হোসেন (২৮), তিনি কালাই উপজেলার থুপসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ দুপুরে আদালতের শুনানির পর আসলাম হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

থানা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মাদকদ্রব্য ও জুয়া আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এবার থানায় ঢুকে পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় কালাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহসান হাবিব একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় পুলিশ সদস্যদের সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে আহসান হাবিব বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে ওই ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিলেন।’

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে হাতে একটি কাঠের বাটাম নিয়ে থানার ভেতরে প্রবেশ করেন আসলাম। পুলিশ সদস্যরা যখন তাঁর পরিচয় এবং থানায় আসার কারণ জানতে চান, তখন তিনি হঠাৎ করেই কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানকে বাটাম দিয়ে আঘাত করেন। আঘাতটি তাঁর বাঁ চোয়ালে লাগায় তিনি রক্তাক্ত হয়ে জখম হন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসলামকে আটকানোর চেষ্টা করেন মাসুদ রানা নামের আরেক কনস্টেবল। কিন্তু আসলাম তাঁর পিঠে বাটাম দিয়ে আঘাত করেন। এই সময় স্মৃতি আক্তার নামে এক নারী পুলিশ সদস্য তাঁকে বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাঁকেও আঘাত করা হয়। তাঁর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে বাটামের আঘাত লাগে। এরপর অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এলে আসলাম বাটামটি ফেলে রেখে থানার চত্বর থেকে পালিয়ে যান।

আহত তিন পুলিশ সদস্যকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় আসলাম থানার ভেতরে ঢুকে তিন পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর আজ সকালে আদালতে তোলা হয়। পরবর্তীতে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।