আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়েছে টাইগাররা। দলের এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই জাতীয় দলের ক্রিকেটার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস। তিনি মনে করেন, জাতীয় দলের ক্রিকেটার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মেধা ও পারফরম্যান্সের পরিবর্তে আবেগ কিংবা পক্ষপাতিত্বের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের এই ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পূর্ববর্তী ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন রিশাদ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং নুরুল হাসান সোহান। তাঁদের পরিবর্তে দলে সুযোগ পান মেহেদী হাসান মিরাজ ও পারভেজ হোসেন ইমন। এছাড়া স্পিনার আলিস আল ইসলাম এই ম্যাচে ওয়ানডে অভিষিক্ত হন।
তবে একাদশে এই পরিবর্তনগুলো ব্যাটিং বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। শারজায় টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেও শুরু থেকেই আফগান পেসারদের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ফলে সপ্তম ওভারের মধ্যেই তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন দল মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়।
ঠিক এই সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইমরুল কায়েস। নিজের ফেসবুক পোস্টে সাবেক এই ওপেনার উল্লেখ করেন যে, ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে কেবল যোগ্যতা এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সেরা একাদশ নির্বাচন করা। জাতীয় দলের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কোনো প্রভাব থাকা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।
ইমরুলের মতে, ক্রিকেট কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি গোটা জাতির প্রতিনিধিত্ব করে। তাই জাতীয় দল গঠনের ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী হওয়া অনুচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন, ‘পক্ষপাতিত্বের কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়’।
পোস্টের শেষাংশে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে ১৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাঁর ভাষায়, ‘যথেষ্ট হয়েছে। এবার যোগ্যতা, ন্যায্যতা ও দেশের স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখার সময় এসেছে।’
উল্লেখ্য যে, জাতীয় দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ইমরুল কায়েসের অসন্তোষ এবার প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ সালে দল থেকে বাদ পড়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ক্রিকেটারদের গ্রেডিং ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন এই সাবেক ওপেনার। ক্রিকেটারদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পারফরম্যান্সের চেয়ে নাম কিংবা পরিচিতিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে কি না, সেই বিষয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে বর্তমানে দল গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয় এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয় দলের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে। এমন সময়ে ইমরুলের এই মন্তব্য জাতীয় দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।