নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক নারীকে মারধরের গুরুতর অভিযোগে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক (সোহেল)-কে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁর দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

মোজাম্মেল হক নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। গতকাল সন্ধ্যায় যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে।

উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।” কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক বারহাট্টার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেই সময় উপজেলা সদরের কোর্ট রোডের গুহিয়ালা এলাকার মৃত অচিন্ত্য চন্দ্র দাসের স্ত্রী অর্চনা রানী দাস সংসদ সদস্যের পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করেন। এই ঘটনার ২ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই নারী কান্নাকাটি করতে করতে মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করছেন। সেই মুহূর্তে সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাঁকে সেখানে অভিযোগ জানাতে নিষেধ করলেও সংসদ সদস্য তাঁর কথা শুনতে চান। এরপর ওই নারী জানান, তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে তাঁকে মারধর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও জমি লিখে না দেওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নিজের মা-বাবাকে মারধরের অভিযোগে গত ৪ জুলাই মোজাম্মেল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি তাঁর মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশ করার পর ৩০ জুলাই তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

বর্তমান অভিযোগের বিষয়ে মোজাম্মেল হক সোহেল দাবি করেন, ‘আমি প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার। আগেরবারও প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসিয়েছিল। আমি মা–বাবার একমাত্র ছেলে। জমি লিখে নেওয়ার জন্য তাঁদের মারধর করার প্রয়োজন নেই। তাঁদের সবকিছুই তো আমার। আমার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মা–বাবা নিজের অজান্তে হয়তো কিছু বলেছেন, যা প্রতিপক্ষ বাড়িয়ে প্রচার করেছে।’

অন্যদিকে অর্চনা রানী দাসের অভিযোগের বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সাত বছর আগে অর্চনা রানীর ভাবিকে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলাম। সেই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়েছে। পরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে প্ররোচিত করে এমপির কাছে নিয়ে গিয়ে মারধরের মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন। পুরো অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’