সহিংস কর্মকাণ্ডে পুনরায় জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে আবারও বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। এর আগে একবার বহিষ্কারের পর তার সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তবে নতুন করে অভিযোগ উঠায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করেছেন।

দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, "বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আবারও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিস্কার করা হলো।" একই সঙ্গে সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে, বহিস্কৃত ব্যক্তির কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য দল কোনো দায়ভার গ্রহণ করবে না। যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সব ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোজাম্মেল হকের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বহিষ্কৃত মোজাম্মেল হক সোহেল নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের তারা মিয়ার পুত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বারহাট্টা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছিলেন। সেই সময় অর্চনা রানী দাস নামের এক বিধবা নারী তার পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করে মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই ঘটনার পরপরই কেন্দ্রীয় যুবদল মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ভুক্তভোগী অর্চনা রানী দাস বারহাট্টা উপজেলা সদরের গুহিয়ালা কোর্ট রোডের মৃত উচিন্দ্র চন্দ্র দাসের স্ত্রী এবং মোজাম্মেল হক সোহেলের প্রতিবেশী।

উল্লেখ্য যে, এটি মোজাম্মেল হকের দ্বিতীয়বারের মতো বহিষ্কার। এর আগে গত ৪ জুলাই নিজের বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে তাকে প্রথমবার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন তদবির এবং বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশ করার পর ৩০ জুলাই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

নিজের বহিষ্কারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মোজাম্মেল হক সোহেল দাবি করেন, তিনি প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি বলেন, "আমি প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার। আগেরবারও প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসিয়েছিল। আমি বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে, জমি লিখে নেওয়ার জন্য মারধরের কী দরকার? তাদের সবকিছুই তো আমার। আমার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হয়তো নিজের অজান্তে কিছু বলেছেন, যা প্রতিপক্ষ বাড়িয়ে প্রচার করেছে।"

প্রতিবেশী অর্চনা রানীর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "প্রতিবেশী অর্চনা রানীর ভাবিকে সাত বছর আগে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলাম, যা আজও ফেরত পাইনি। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে সামান্য তর্কবিতর্ক হয়েছে, যা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকজন ওই নারীকে প্ররোচিত করে এমপির কাছে হাজির করে মারধরের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করিয়েছে, যা পুরোটাই মিথ্যা ও বানোয়াট।"