যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহাগ ফকির নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিআইডি এই গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছে।

সিআইডি গণমাধ্যম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সোহাগ নিজেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক দাবি করেছেন। পূজার ছুটিতে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তাঁর দাবি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

এর আগে এই একই ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।

সিআইডির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার তদন্ত চলাকালীন সোহাগের (৩৮) সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাঁর বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করার পর রাজৈর থানা-পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সোহাগকে আদালতে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর অল্প কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া যায়। এর ফলে অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষাটি স্থগিত করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে ১৬ অক্টোবর পুনরায় পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৫ হাজার ৩৮৬ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।