যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২ জন নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল। এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে মুদ্রণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সরাসরি তদারকি করছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গত ১০ অক্টোবর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, সেজন্য এবার অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতভর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে অবস্থান করছেন প্রতিমন্ত্রী। সকাল থেকেই তিনি এই পুরো প্রক্রিয়ার নিবিড় তদারকি করছেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণের সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের মোবাইল ফোনসহ যাবতীয় ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং আশপাশের কক্ষগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।
আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা বজায় রাখতে প্রশ্ন প্রণয়ন ও মুদ্রণের প্রতিটি স্তরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিনভর প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছিল। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করতে হচ্ছে। তাদের মোবাইল ফোনসহ ডিজিটাল ডিভাইসগুলো আগেই জমা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে তাদের ওই কক্ষ থেকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেজন্যই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানামাত্রই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পরীক্ষাটি স্থগিত করে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।