নাটোরে ভয়াবহ বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম (৫০) এবং তাঁর ৯ বছর বয়সী মেয়ে তাছফিয়া আক্তার। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাঁদের নিজ বাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে মির্জাগঞ্জের হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের সমাহিত করা হয়।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাবা ও মেয়ের মরদেহ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের থানা-সংলগ্ন নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা আক্তার (৪০) এবং তাঁদের ছেলে লাবিব (১১)। বর্তমানে মা ও ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে তাঁদের নাটোর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত শহিদুল ইসলাম মাগুরা জেলায় ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রুবিনা আক্তার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী পূবালী ব্যাংক শাখার একজন কর্মকর্তা।
শহিদুল ইসলামের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার জানান, পূজার ছুটিতে সপরিবারে রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। গত সোমবার বিকেল চারটার দিকে রুবিনা আক্তার মেয়ে তাছফিয়া ও ছেলে লাবিবকে নিয়ে মির্জাগঞ্জ থেকে স্বামীর কর্মস্থল মাগুরায় পৌঁছান। সেখান থেকে গতকাল সকালে সপরিবারে বাসে করে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথে নাটোরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের বহনকারী বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই শহিদুল ইসলাম ও তাঁর মেয়ে তাছফিয়া মারা যান।
ফারুক হাওলাদার আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, ‘পূজার ছুটিতে সবাই মিলে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে আনন্দ করতে যাচ্ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। আমার ভাই শহিদুল ইসলাম ও ভাতিজি তাছফিয়া ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শহিদুলের স্ত্রী রুবিনা ও ছেলে লাবিব। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনা তাঁদের জানানো হয়নি।’
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের এই মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি। পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছে।