উন্নত জীবন এবং উচ্চ বেতনের চাকরির স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন লালমনিরহাটের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন। তবে সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তিনি প্রত্যাশিত চাকরির বদলে নিজেকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আবিষ্কার করেন। সেখানে কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, রণক্ষেত্রে পাঠানোর ঠিক আগের দিন দেশে থাকা ছোট ভাই মো. রনিকে ফোন করেন মামুন। অত্যন্ত আবেগপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “যুদ্ধে পাঠিয়ে দিচ্ছে, আর দেখা না-ও হতে পারে।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশিদের মধ্যে রাশিয়ায় যাওয়ার এক প্রবল প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক তরুণের চোখে সেখানে উচ্চ আয়ের চাকরির রঙিন স্বপ্ন। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দালালদের খপ্পরে পড়ে এবং প্রতারিত হয়ে বহু বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে জড়িয়ে পড়ছেন। তারা চাকরির কথা শুনে গেলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের ময়দানে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। মুক্তকণ্ঠের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরের ব্যবধানে অন্তত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যারা এই ধরণের প্রতারণার শিকার হয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন।