বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী সাঈদা কামালকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। দাফনের আগে পুলিশ সদস্যরা এই বীরাঙ্গনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এই শোকাবহ মুহূর্তে সাঈদা কামালের বড় বোন ও বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল এবং তাঁর মেয়েসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রয়াত সাঈদা কামাল ছিলেন কবি সুফিয়া কামালের কনিষ্ঠ কন্যা। গত রোববার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিউমোনিয়া এবং কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।
মৃত্যুর পর সাঈদা কামালের মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে তাঁর মরদেহ ধানমন্ডিতে অবস্থিত নিজ বাসভবন ‘সাঁঝের মায়া’য় traslad করা হয়। এরপর জোহরের নামাজের পর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৫২ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা সাঈদা কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তাঁর বড় বোন সুলতানা কামালের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করেন। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের বিশেষ প্রশংসাপত্র লাভ করেন।
চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক হিসেবে সাঈদা কামাল দীর্ঘকাল অবদান রেখে গেছেন। তাঁর সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশে এবং বিদেশে তাঁর একাধিক একক ও যৌথ চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।