বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হয়ে ভিসা হাতে পাওয়ার পর শুরু হয় স্বপ্নের গন্তব্যে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি। তবে প্রথমবারের মতো বিদেশযাত্রায় অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে। কী কী নথি সঙ্গে রাখতে হবে, লাগেজে কী কী নেওয়া যাবে কিংবা অপরিচিত দেশে পৌঁছে যাতায়াত ও যোগাযোগের ব্যবস্থা কীভাবে করা হবে—এসব বিষয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিলে যাত্রাপথে অপ্রত্যাশিত ঝামেলা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় নথি গুছিয়ে নিন

বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিশ্চিত করা। পাসপোর্টের পাশাপাশি ভিসা, বিমান টিকিট, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার এবং ভর্তিসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা আবশ্যক। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, বৃত্তির কাগজপত্র, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণপত্র এবং আবাসনের তথ্যও সঙ্গে নিতে হতে পারে। গন্তব্য দেশের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বিশেষ নথি বা অন্যান্য কাগজপত্রের প্রয়োজন আছে কি না, তা আগেই যাচাই করে নেওয়া উচিত।

সব নথির মূল কপি নিরাপদে রাখার পাশাপাশি কয়েক সেট ফটোকপি এবং ডিজিটাল কপি তৈরি করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো চেক-ইন লাগেজে না রেখে হাতব্যাগে রাখাই শ্রেয়। এছাড়া পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ, টিকিটের তারিখ, ফ্লাইটের সময় এবং টিকিটে উল্লিখিত নামের সঙ্গে পাসপোর্টের নামের মিল আছে কি না, তা পুনরায় মিলিয়ে নিন।

বিমান টিকিট ও লাগেজের নিয়ম জানুন

ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের যথেষ্ট আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা উচিত। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণত উড্ডয়নের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসরণ করা সবচেয়ে জরুরি। ফ্লাইটটি সরাসরি নাকি ট্রানজিটযুক্ত, মাঝপথে বিমান পরিবর্তন করতে হবে কি না এবং পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে কি না, তা আগেই জেনে নিন।

লাগেজের ওজন ও আকারের সীমা এয়ারলাইনসভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই টিকিটের সঙ্গে দেওয়া ব্যাগেজ নীতিমালা গুরুত্বের সাথে যাচাই করুন। হাতব্যাগে কী নেওয়া যাবে, তরল পদার্থ বহনের সীমা কত এবং কোন জিনিসগুলো নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ কোনো জিনিস সঙ্গে নিলে বিমানবন্দরে আইনি বা প্রশাসনিক সমস্যায় পড়তে পারেন।

এ বিষয়ে কথা হয় বিডি এক্সপার্ট এডুকেশন কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুল ইসলাম শিমুলের সঙ্গে। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বিদেশযাত্রার আগে পাসপোর্ট, ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র ও টিকিটের তথ্য যাচাই করে নিতে হবে। জরুরি নথির ফটোকপি ও ডিজিটাল কপি সংরক্ষণের পাশাপাশি পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মূল্যবান জিনিস হাতব্যাগে রাখা উচিত।”

শফিকুল ইসলাম শিমুল আরও বলেন, “এয়ারলাইনসের লাগেজ নীতিমালা, ট্রানজিটের শর্ত ও বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় সম্পর্কেও আগেই জেনে নিতে হবে। পাশাপাশি বিদেশে পৌঁছানোর আগেই আবাসন, যাতায়াত ও জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।”

পোশাক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিকস

গন্তব্য দেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে পোশাক নির্বাচন করুন। শীতপ্রধান দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত গরম কাপড় এবং বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় যাওয়ার জন্য উপযোগী পোশাক সঙ্গে রাখুন। তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে লাগেজ ভারী না করাই ভালো। নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধ সঙ্গে নিতে হলে সেগুলো মূল প্যাকেটে রাখুন। প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অবশ্যই সঙ্গে রাখুন এবং গন্তব্য দেশে ওষুধ বহনের নিয়মাবলী যাচাই করুন।

মুঠোফোন, ল্যাপটপ, চার্জার, প্রয়োজনীয় কেব্‌ল ও পাওয়ার অ্যাডাপ্টার গুছিয়ে নিন। গন্তব্য দেশের বৈদ্যুতিক সকেট ও ভোল্টেজের সঙ্গে আপনার ডিভাইসের সামঞ্জস্য আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নিন। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথির ডিজিটাল কপি ফোন বা নিরাপদ অনলাইন স্টোরেজে সংরক্ষণ করুন।

পৌঁছানোর পরের পরিকল্পনাও জরুরি

বিদেশে পৌঁছে কোথায় অবস্থান করবেন, বিমানবন্দর থেকে আবাসনে যাওয়ার মাধ্যম কী হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন—এসব বিষয় আগে থেকেই চূড়ান্ত করে রাখুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দপ্তর, আবাসন কর্তৃপক্ষ ও পরিচিত ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করুন। গন্তব্য দেশের স্থানীয় জরুরি নম্বরগুলো জেনে নিন। ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য কার্ড প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।