দেশের প্রায় ৪০ লাখ কৃষকের জন্য বিশেষ 'কৃষক কার্ড' চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই কার্ডের আওতায় কৃষকরা মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। কৃষিকাজকে আরও লাভজনক করে তোলা, উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা এবং প্রান্তিক কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে এক বিশাল জনসভায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য সরকারের এই মহাপরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

কৃষি ও কৃষকের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই বিশ্বাস থেকেই কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, কৃষকদের সহায়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী খাল খনন এবং নদী সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষিতে পানির তীব্র সংকট দূর করতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, গত আট মাসের মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খালের খনন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের সেচের পানির অভাব দূর হবে। বিশেষ করে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের যেসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে, সেখানে পানির সংকট মোকাবিলা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণে এই উদ্যোগ বিশেষ সহায়তা করবে।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলেই প্রথম এই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়ানো এবং গ্রামীণ জনপদের মানুষের পানির কষ্ট লাঘব করতে সরকার পুনরায় নদী ও খাল খননের কাজ শুরু করেছে।

কৃষির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যার সংখ্যা ৫০টি থেকে বাড়িয়ে ১০০টি করা হবে। এর ফলে সাধারণ চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহর বা বড় মহানগরীতে ছুটতে হবে না।

তিনি আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শিশু ও নারীদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালিসিস সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এর ফলে উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক ও সাধারণ চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে, যদিও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে বড় হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

রাজশাহীর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তারেক রহমান জানান, স্থানীয় নেতারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যার সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ করার দাবি জানিয়েছেন। এই দাবির বিষয়ে তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানান।

সমাবেশের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় রাজশাহী ধর্মসভায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি সড়কপথে হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকে সামরিক বিমানযোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।