ঢাকার ধামরাইয়ে ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটকের পর তার পরিবারের নিকট থেকে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আল মামুন নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের দ্বিতীয় মহিষাসী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. হান্নান মৃধা নামের এক ব্যক্তিকে তিন পিস ইয়াবাসহ আটক করেন এএসআই আল মামুন।
আটকের পর থেকে শুরু হয় বিতর্ক। হান্নান মৃধার পরিবারের অভিযোগ, তাকে মাত্র তিন পিস ইয়াবাসহ আটক করা হলেও পুলিশ কর্মকর্তা আল মামুন তাকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর তাকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে তার স্ত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, এক পর্যায়ে ওই এএসআই-কে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হলেও তিনি আরও ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন।
এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সংবাদ প্রকাশের পর পদক্ষেপ হিসেবে সোমবার এএসআই আল মামুনকে পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়।
ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান জানান, এ বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত আদেশ পাননি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতেই ওই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে নাকি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তা লিখিত আদেশ পাওয়ার পর নিশ্চিত করা যাবে। এছাড়া অভিযোগের বিস্তারিত বিষয়ে তাকে তেমন কিছু জানানো হয়নি বলেও জানান ওসি।