ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার বেদে পল্লীতে আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা এবং ড্রাগন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার রাত থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলে। এই দীর্ঘ সময়ে বেশ কিছু বসতবাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলা ও সংঘর্ষের ফলে পুরো বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেদে পল্লীতে দীর্ঘ দিন ধরে রাসেল ও মনিরুলের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সময়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে সম্প্রতি এই পুরনো বিরোধের সাথে ড্রাগন চুরি এবং মাদক বেচাকেনার অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে বস্তি থেকে ড্রাগন চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। ওই ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মিজান নামে আরেক ব্যক্তিকে ধরে আনা হয়, যার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয়রা জানান, তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ না করে আলোচনার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি বেদে পল্লীর বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি করে, যার ফলে দুই পক্ষের বিরোধ আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার রাতে বেদে পল্লীর এক অংশের সরদার মনিরুল ইসলাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা ইমাম হোসেন লাভলু ও রেজা কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে এলাকায় অতর্কিত হামলা চালান। এই সময় বেশ কিছু বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে পাল্টা হামলা চালান। জানা গেছে, তারা শামীম হোসেন ও ইমাম হোসেন লাভলুসহ কয়েকজনকে আটক করে মারধর করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। তবে উত্তেজনা প্রশমিত না হওয়ায় জেলা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য আনা হয়। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংঘর্ষের পর থেকে বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে চলে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”