ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত এক মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব বিএনপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। এমপির এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে ওইদিন রাতেই বিক্ষোভ মিছিল organizes করে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সকাল সাড়ে ১০টায় কালীগঞ্জের মেইন বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবু তালিব বলেন, “সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের সঙ্গে বিএনপি সরাসরি জড়িত।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এমনকি গরু-ছাগল ও মহিষের ঘাস খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের পাশাপাশি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি এবং এসব বিষয়ে যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কালীগঞ্জ শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াতে ইসলামী। ওই মিছিলে বিএনপিবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাত ৯টার দিকে শহরের নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই মিছিল থেকে সংসদ সদস্য আবু তালিব এবং জামায়াত-শিবিরকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয় এবং সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই নীতিতে তারা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঠিক সেই সময়েই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বিএনপিকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তা প্রতিহত করতে তারা রাজপথে থাকবেন।
যুবদল নেতা শাহীন লস্কার অভিযোগ করেন, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যখন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছিলেন, তখন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বাজারে হট্টগোল সৃষ্টির চেষ্টা করেন।
দুই রাজনৈতিক দলের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ফলে পুরো শহরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।