বিরোধী দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের এমপিদের সামান্য অর্থ দিয়ে সন্তুষ্ট রাখা হচ্ছে, আর ক্ষমতাসীনরা বড় অঙ্কের বরাদ্দের সুবিধা ভোগ করছেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে তিনি সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য, উপদেষ্টাদের মন্তব্য এবং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন যে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। সরকারি দলের এমপিদের যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, বিরোধী দলের এমপিদের ক্ষেত্রে তা দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিএনপি সরকার তা বিরোধী দলের এমপিদের প্রদান করছে না বলে তিনি দাবি করেন।

এই পরিস্থিতিকে একটি রূপকের মাধ্যমে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “খুব হইচই বা দৌড়াদৌড়ি করলে অন্য কোনো খাত থেকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে বাচ্চাদের কান্না থামাতে যেমন চকলেট দেওয়া হয়, বিএনপি সরকারও সেভাবে চকলেট বিরোধী দলের এমপিকে খুশি করা হচ্ছে। আর অন্যদিকে তারা নিজেরা বিরিয়ানি রান্না করে খাচ্ছেন।”

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাথে অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের আচরণ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর সংরক্ষিত নারী আসনের একজন অনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ডিও লেটারে কাজ না করে অনির্বাচিত প্রতিনিধির ডিও লেটার অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সৈয়দপুরের একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উদাহরণ টেনে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন ও নামফলক স্থাপনকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্য তাঁর নামফলক স্থাপন করার পর ওই নারী সংসদ সদস্য সেখানে নিজের নাম না থাকার বিষয়ে আপত্তি জানান। এই ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হওয়ার বিষয়টি ভিডিওতেও দেখা গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “লাখ লাখ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়ে আসা একজন এমপি, আর দলীয় মনোনয়নে আসা অনির্বাচিত প্রতিনিধি এই দুজনকে কি এক পাল্লায় মাপা যায়? এটা কোন রাস্তা? আপনারা কি তা টের পাচ্ছেন না?”