রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অনুপস্থিতি নিয়ে কথা বলেছে দলটি। সরকারি প্রোটোকল এবং ‘রুলস অব প্রেসিডেন্স’ অনুযায়ী যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করার অভিযোগ তুলেছে জামায়াত। তাদের দাবি, বিরোধীদলীয় নেতাকে হেয় করার এবং অপমানিত করার উদ্দেশ্যেই এই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “গতকাল ওসমানী উদ্যানে স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্র আমাদের অফিসে পাঠানো হয়। সেখানে জামায়াতের আমির এবং আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ‘রুলস অব প্রেসিডেন্স’ অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান যে মর্যাদা পাওয়ার অধিকারী, আয়োজকেরা তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।”
সরকারি প্রোটোকল এবং পদের মর্যাদার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আইন ও প্রোটোকল অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা একজন পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। কিন্তু আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সভাপতি হিসেবে রাখা হয়েছে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে। এছাড়া অতিথি তালিকায় প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের নাম থাকলেও বিরোধীদলীয় নেতার অবস্থান কোথায় হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ ছিল না।
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত নেতা প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সেখানে ওনার অবস্থান কোথায় হতো? তিনি কি সাধারণ শ্রোতাদের সঙ্গে গ্যালারিতে গিয়ে বসবেন, নাকি মঞ্চে বিশেষ মর্যাদায় থাকবেন? তাকে অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে সাধারণ গ্যালারিতে বসিয়ে অপমান করার উদ্দেশ্যেই কি এই আয়োজন ছিল?
সরকারের পক্ষ থেকে করা সমালোচনার জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কেবল ‘তিনি অনুষ্ঠানে আসেননি’ বলে দায় এড়ানো যাবে না। সরকারের এই ভিত্তিহীন অভিযোগ তারা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি দাবি করেন, আয়োজকেরা বিরোধী দলের প্রতি চরম অন্যায় করেছেন এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।