দুর্ঘটনা, স্ট্রোক, হৃদ্রোগ অথবা অন্য কোনো গুরুতর অসুস্থতায় দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো অনেক সময় অত্যন্ত জরুরি হয়ে যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকার বড় হাসপাতালে রোগী স্থানান্তর করতে সড়কপথে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। আবার কোনো রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরেও নেওয়ার প্রয়োজনও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কাজে আসতে পারে ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’।
তবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মানেই শুধু হেলিকপ্টারে রোগী পরিবহন না। রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর, পর্যবেক্ষণ যন্ত্র এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মীর ব্যবস্থাও থাকতে পারে। এ কারণে সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের তুলনায় এর খরচ অনেক বেশি হয়ে যায়।
বাংলাদেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচ কত, কোন কোন পরিস্থিতিতে এই সেবা নেওয়া যায়, কীভাবে বুকিং করতে হয় এবং সেবা নেওয়ার আগে কোন কোন বিষয়গুলো জানা জরুরি, চলুন তা নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিই।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কী?
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হলো বিশেষভাবে ব্যবস্থাপনা করা বিমান বা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অসুস্থ অথবা আহত রোগীকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা। সাধারণত গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর, এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া অথবা বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে এই সেবা ব্যবহার করা হয়।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন সরবরাহ, হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ পর্যবেক্ষণের যন্ত্র, ভেন্টিলেটর এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকতে পারে। রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক, নার্স বা প্যারামেডিকও সঙ্গে থাকতে পারেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সেবা প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে।
হেলিকপ্টার অ্যাম্বুলেন্স: দেশের ভেতরে এক শহর থেকে অন্য শহরে বা দুর্গম এলাকা থেকে চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অবতরণের উপযুক্ত স্থান, আবহাওয়া, অনুমতি এবং রোগীর অবস্থা বিবেচনা করতে হয়।
বিমানভিত্তিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্স: দূরপাল্লার রোগী পরিবহন, বিশেষ করে বিদেশে চিকিৎসার জন্য রোগী স্থানান্তরে ব্যবহার করা হয়। এতে বিশেষভাবে সজ্জিত বিমান থাকতে পারে।
এ ছাড়া নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমানে স্ট্রেচার বা চিকিৎসাকর্মীর তত্ত্বাবধানে রোগী পরিবহনের ব্যবস্থাও রয়েছে। এটি বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মতো নয় এবং সব রোগীর জন্য উপযুক্তও নয়।
কোন পরিস্থিতিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হয়
সব অসুস্থ রোগীর জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হয় না। রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার ধরন, দূরত্ব এবং বিকল্প পরিবহনের সুযোগ বিবেচনা করে চিকিৎসক এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। যেমন-
জরুরি রোগী স্থানান্তর: কোনো দুর্গম এলাকা থেকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া প্রয়োজন হলে।
গুরুতর দুর্ঘটনা: দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে, যদি চিকিৎসক ও পরিবহন ব্যবস্থার মূল্যায়নে এটি উপযুক্ত হয়।
হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের পরবর্তী চিকিৎসা: রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে এবং চিকিৎসক মনে করলে যে আকাশপথে স্থানান্তর করা নিরাপদ।
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রা: বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকলে বা চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে স্থানান্তর প্রয়োজন হলে।
গুরুতর অসুস্থ প্রবাসী বা বিদেশে আটকে পড়া রোগীকে দেশে আনা: রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিবহনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
তবে মনে রাখবেন, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো জরুরি অবস্থায় প্রথম কাজ হলো দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে গিয়ে জরুরি চিকিৎসা নিতে দেরি করা ঠিক না। অনেক ক্ষেত্রে নিকটবর্তী উপযুক্ত হাসপাতালে দ্রুত পৌঁছানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচ কত?
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচ রোগী কোথা থেকে কোথায় যাবেন, কী ধরনের বিমান ব্যবহার করা হবে, রোগীর জন্য কতটা চিকিৎসাসেবা দরকার এবং যাত্রাটি কতটা জরুরি তার ওপর নির্ভর করে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সেবাদাতার প্রকাশিত মূল্যতথ্য অনুযায়ী, দেশের ভেতরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচ সাধারণত ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা বা তার বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, বিদেশে রোগী নেওয়ার ক্ষেত্রে খরচ কয়েক দশ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
নিচের পরিমাণগুলো বিভিন্ন সেবাদাতার প্রকাশিত মূল্য থেকে নেওয়া আনুমানিক ধারণা। এগুলো নির্ধারিত বা সরকারি ভাড়া নয়। বুকিংয়ের আগে বর্তমান মূল্য ও সেবার শর্ত সরাসরি যাচাই করতে হবে।
দেশের ভেতরে হেলিকপ্টার অ্যাম্বুলেন্স খরচ ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা বা তার বেশি। এছাড়া-
ঢাকা থেকে কলকাতা প্রায় ২১ লাখ থেকে ২৭ লাখ টাকা
ঢাকা থেকে দিল্লি প্রায় ২৫ লাখ থেকে ৩৩ লাখ টাকা
ঢাকা থেকে চেন্নাই প্রায় ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা
ঢাকা থেকে ব্যাংকক প্রায় ২৬ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা
ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর প্রায় ৩৪ লাখ থেকে ৪৫ লাখ টাকা
বিদ্র: Fly Helicopter Service Bangladesh, Medical Market BD, মুক্তপ্রাণ, Air Ambulance Dhaka Bangkok। বিভিন্ন সেবাদাতার মূল্যতথ্য ভিন্ন হওয়ায় এগুলোকে পরিকল্পনার আনুমানিক হিসাব হিসেবে দেখতে হবে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সেবা এক রকম নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান হেলিকপ্টারে রোগী পরিবহনের মূল্য জানায়, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিমান, চিকিৎসাকর্মী ও দুই প্রান্তের সড়ক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে। তাই শুধু ভাড়ার অঙ্ক দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচ কেন বেশি?
সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের তুলনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনায় বেশি ব্যয় হয়। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।
দূরত্ব ও যাত্রাপথ: রোগীকে কত দূরে নিতে হবে এবং বিমানকে কতক্ষণ উড়তে হবে, তার ওপর খরচ নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক যাত্রায় অতিরিক্ত অনুমতি ও বিমানবন্দরের বিভিন্ন ফিও যুক্ত হতে পারে।
বিমানের ধরন: হেলিকপ্টার, বিশেষভাবে সজ্জিত ছোট বিমান এবং চিকিৎসাসেবার জন্য ব্যবহৃত বিশেষায়িত জেটের পরিচালন ব্যয় এক নয়।
রোগীর শারীরিক অবস্থা: রোগীর নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হলে ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন, পর্যবেক্ষণ যন্ত্র এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মীর ব্যবস্থা করতে হতে পারে।
চিকিৎসাকর্মীর সংখ্যা: রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স বা প্যারামেডিকের প্রয়োজন হতে পারে। তাঁদের যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয়ও মোট খরচে যুক্ত হতে পারে।
জরুরি বুকিং: অল্প সময়ের মধ্যে বিমান প্রস্তুত করা, প্রয়োজনীয় অনুমতি সংগ্রহ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত করার কারণে খরচ বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত পরিবহন ও অন্যান্য ফি: রোগীকে হাসপাতাল থেকে বিমানবন্দরে এবং গন্তব্যের বিমানবন্দর থেকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সড়ক অ্যাম্বুলেন্স লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক যাত্রায় রোগীর ছাড়পত্র, বিমানবন্দরের ব্যবস্থা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও থাকতে পারে।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?
সেবার ধরন অনুযায়ী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
চিকিৎসা সরঞ্জাম: রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর, হৃদ্স্পন্দন পর্যবেক্ষণের যন্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম।
চিকিৎসাকর্মীর তত্ত্বাবধান: রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স বা প্যারামেডিক সঙ্গে থাকতে পারেন।
দ্রুত স্থানান্তর: উপযুক্ত পরিস্থিতিতে সড়কপথের দীর্ঘ যাত্রার সময় কমানো সম্ভব।
এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া: বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য রোগীকে উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা।
বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ: রোগীর শারীরিক অবস্থা ও ভ্রমণের অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশের হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা।
দুই প্রান্তে পরিবহন সমন্বয়: কিছু সেবাদাতা রোগীর বর্তমান হাসপাতাল থেকে গন্তব্যের হাসপাতাল পর্যন্ত পুরো যাত্রার ব্যবস্থা করে থাকেন।
তবে সব প্রতিষ্ঠান সব সুবিধা দেয় না। বুকিংয়ের আগে কোন চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকবে, চিকিৎসাকর্মী সঙ্গে থাকবেন কি না এবং পুরো যাত্রায় রোগীর তত্ত্বাবধান কীভাবে করা হবে, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কীভাবে বুকিং করবেন?
বাংলাদেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুকিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। বুকিংয়ের সময় কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা ভালো।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: রোগীকে আকাশপথে নেওয়া নিরাপদ কি না এবং কী ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দরকার, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।
সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করুন: রোগী কোথায় আছেন, কোথায় নেওয়া হবে এবং কত দ্রুত স্থানান্তর করতে হবে, তা জানান।
চিকিৎসার তথ্য দিন: রোগীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা, রোগ নির্ণয়, ব্যবহৃত ওষুধ, অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রস্তুত রাখুন।
লিখিত মূল্যতালিকা নিন: বিমানের ভাড়া, চিকিৎসাকর্মী, চিকিৎসা সরঞ্জাম, সড়ক অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্যান্য ফি আলাদা করে জেনে নিন।
অনুমতি ও কাগজপত্র নিশ্চিত করুন: আন্তর্জাতিক যাত্রার ক্ষেত্রে রোগীর পাসপোর্ট, ভিসা প্রয়োজন হলে তার ব্যবস্থা, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিষয়টি যাচাই করুন।
গন্তব্যের হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলুন: সেখানে রোগীকে ভর্তি করার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বিভাগ এবং নিবিড় পরিচর্যার শয্যা আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
বাংলাদেশে সেবা সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্যের জন্য Air Ambulance Bangladesh এবং Fly Helicopter Service Bangladesh দেখতে পারেন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে তথ্য থাকলেই নির্দিষ্ট সময়ে বিমান ও চিকিৎসাকর্মী পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বুকিংয়ের আগে কোন বিষয়গুলো যাচাই করবেন?
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মতো ব্যয়বহুল সেবা নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিষ্ঠানটি বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট বিমান পরিচালনা ও চিকিৎসা পরিবহনের প্রয়োজনীয় অনুমতি আছে কি না।
রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী বিমানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে কি না।
মোট খরচের মধ্যে সড়ক অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসাকর্মী, অক্সিজেন, বিমানবন্দরের ফি ও অন্যান্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত কি না।
আবহাওয়া বা অন্য কোনো কারণে যাত্রা পিছিয়ে গেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোগীর সঙ্গে কতজন স্বজন যেতে পারবেন এবং তাঁদের জন্য আলাদা খরচ লাগবে কি না।
অগ্রিম অর্থ, বুকিং বাতিল এবং অর্থ ফেরতের শর্ত কী।
স্বাস্থ্যবিমায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচ অন্তর্ভুক্ত আছে কি না।
বিশেষ করে বিদেশে রোগী নেওয়ার ক্ষেত্রে লিখিতভাবে মোট খরচ জেনে নেওয়া ভালো। শুধু বিমানভাড়ার হিসাব নিলে পরে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচ কি স্বাস্থ্যবিমা থেকে পাওয়া যায়?
এটি নির্ভর করে বিমার ধরন ও শর্তের ওপর। সব স্বাস্থ্যবিমায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচ বহন করা হয় না। কোনো কোনো পলিসিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জরুরি রোগী পরিবহনের খরচ দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
তাই সেবা নেওয়ার আগে বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে হবে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচ বহন করা হবে কি না, সর্বোচ্চ কত টাকা পাওয়া যাবে এবং আগে থেকে অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক কি না। খরচ ফেরত পাওয়ার জন্য চিকিৎসকের সুপারিশ, বিল ও অন্যান্য কাগজপত্রও প্রয়োজন হতে পারে।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কি সব সময় সবচেয়ে ভালো বিকল্প?
না। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত রোগী স্থানান্তরের সুযোগ দিলেও এটি সব পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উপযুক্ত বা নিরাপদ ব্যবস্থা নয়।
রোগীর অবস্থা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, গন্তব্যের দূরত্ব, আবহাওয়া, বিমানবন্দরের অবস্থান এবং আকাশপথে যাত্রার ঝুঁকি বিবেচনা করতে হয়। কখনো সড়ক অ্যাম্বুলেন্সে দ্রুত নিকটবর্তী উপযুক্ত হাসপাতালে পৌঁছানোই ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
আবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য এবং বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা জরুরি। তবে শুধু খরচের কথা ভেবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা নিরাপদ স্থানান্তর বিলম্বিত করা উচিত নয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা। বাংলাদেশের ভেতরে এ ধরনের সেবার খরচ আনুমানিক ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা বা তার বেশি হতে পারে। বিদেশে রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ব্যয় কয়েক দশ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কোনো একক নির্ধারিত ভাড়া নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থা, যাত্রাপথ, বিমানের ধরন এবং চিকিৎসাসেবার ওপর মোট খরচ নির্ভর করে। তাই বুকিংয়ের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, একাধিক সেবাদাতার মূল্য তুলনা করা এবং সব খরচ ও শর্ত লিখিতভাবে নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
তথ্যসূত্র
Fly Helicopter Service Bangladesh: এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও ভাড়ার তথ্য
Medical Market BD: দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক রুটের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মূল্য
মুক্তপ্রাণ: বাংলাদেশের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবা ও আনুমানিক খরচ
Air Ambulance Bangladesh: সেবা, বুকিং ও যোগাযোগের তথ্য
Civil Aviation Authority of Bangladesh: Aviation Public Health Manual
Air Ambulance Dhaka to Bangkok: আন্তর্জাতিক রোগী পরিবহনের আনুমানিক খরচ