নেটফ্লিক্সের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর জনপ্রিয় গান ‘গোল্ডেন’-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছেন গায়িকা ও গীতিকার ইজে। সম্প্রতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এই জনপ্রিয় শিল্পী।

তাঁর জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন সংগীত প্রযোজক ও গীতিকার স্যাম কিমকে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে গত শনিবার তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সোমবার জনপ্রিয় ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’–এ প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে এই সুখবরটি জানা গেছে।

সিউলের গাংডং এলাকার স্টেজ ২৮-এ খোলা আকাশের নিচে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে বিয়ের আয়োজন করেন এই জুটি। ইজের জন্য এই স্থানটি অত্যন্ত স্মৃতিবিজড়িত। এক সময় এখানে তাঁর নানা, প্রবীণ কোরীয় অভিনেতা শিন ইয়ং-কিউনের বাসভবন ছিল। এছাড়া ইজের বড় ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানটিও এই একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে তাঁরা আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সেই সঙ্গে বিয়ের তারিখটিও এগিয়ে আনা হয়।

সব মিলিয়ে বিয়ের যাবতীয় প্রস্তুতির জন্য তাঁদের হাতে সময় ছিল মাত্র চার মাস। উল্লেখ্য, ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর প্রচারণার ব্যাপক ব্যস্ততার কারণে তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা আগে একবার পিছিয়ে গিয়েছিল।

২০১৭ সালের মে মাসে একটি গানের কাজ করতে গিয়েই ইজে ও স্যাম কিমের প্রথম পরিচয় হয়। শুরুতে সহকর্মী হিসেবে তাঁদের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও সময়ের সাথে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়। এরপর ২০২৫ সালের জুনে তাঁরা বাগ্‌দান করেন।

বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মহল। এই অনুষ্ঠানে কোরীয় বিয়ের ঐতিহ্যবাহী রীতি ‘পেবেক’ পালন করা হয়। এই বিশেষ রীতিতে নবদম্পতি পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের সামনে নত হয়ে তাঁদের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।

ইজে একসময় এসএম এন্টারটেইনমেন্টের প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি একজন দক্ষ গীতিকার হিসেবে কে-পপ সংগীত জগতে নিজের জায়গা করে নেন। রেড ভেলভেটের ‘সাইকো’ এবং এসপার ‘ড্রামা’ ও ‘আর্মাগেডন’-এর মতো জনপ্রিয় সব গানে তাঁর কাজ রয়েছে।

তবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয় ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ সিনেমার ‘গোল্ডেন’ গানটি। গানটির সহগীতিকার এবং কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন ইজে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার জন্য লেখা সেরা গানের পুরস্কার জয় করে এই ‘গোল্ডেন’ গানটি।