বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পরাজয়ের পর রেফারির ভূমিকা ও ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান। সেই সাথে দলের আরও কয়েকজন সদস্যও রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই ঘটনার তিন মাস পর এবার কঠোর শাস্তির মুখে পড়লেন মিসরের কোচসহ মোট তিনজন। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা হোসাম হাসান এবং তার যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসানকে তিন ম্যাচ করে নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি ফুটবলার মোস্তফা জিকোকে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে হোসাম হাসান জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার ভাই ইব্রাহিম হাসান দলটির পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত। অন্যদিকে, নিষিদ্ধ হওয়া জিকো মিসর জাতীয় দলের একজন ফরোয়ার্ড।

ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয় মিসর। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজের অসাধারণ গোলের পর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।

তবে ম্যাচের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মিসরের কোচ ও খেলোয়াড়রা। বিশেষ করে আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে জিকোর একটি গোল বাতিল করেছিলেন রেফারি। এছাড়া ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টির আবেদনও নাকচ করে দেওয়া হয় মিসরের। হোসাম হাসানের অভিযোগ ছিল, রেফারিদের এসব ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রেফারিংয়ের কড়া সমালোচনা করে মিসর কোচ দাবি করেছিলেন, তার দলের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। অন্যদিকে, রেফারিকে লক্ষ্য করে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন ফুটবলার জিকো। কোচিং স্টাফ এবং ফুটবলারদের এই ধরনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।

গত আগস্টে এই তিনজনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত তদন্ত শুরু করেছিল ফিফা। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ার পর এবার এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

তবে ফিফার এই শাস্তি মেনে নেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তারা আপিল করবেন কি না, তা বিবেচনা করা হবে।

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আগামী নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে ডাগআউটে পাওয়া যাবে না হোসাম ও ইব্রাহিম হাসানকে। এছাড়া আগামী মার্চে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ম্যাচেও তাদের অনুপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আগামী জুন পর্যন্ত জাতীয় দলের কোনো ম্যাচে খেলতে পারবেন না মোস্তফা জিকো।

উল্লেখ্য, ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে মিসরের অভিযোগগুলো আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ফিফার রেফারিং বিভাগের প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা। তিনি দাবি করেছিলেন, রেফারিরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হলে তা রেফারি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন তিনি।