দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় তৈরি হয়েছে দীর্ঘ অবকাশের এক দারুণ সুযোগ। কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি দূর করে পরিবারকে সময় দেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, ভ্রমণ কিংবা নিজের পুরনো শখগুলো পূরণ করার মাধ্যমে এই দিনগুলোকে আনন্দময় করে তোলা সম্ভব।
তবে ছুটির পরিকল্পনা মানেই যে কেবল বাইরে ঘুরে বেড়ানো, তা নয়। দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে যেসব কাজ করা হয়ে ওঠে না, সেগুলো গুছিয়ে নেওয়া কিংবা একান্ত নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা হতে পারে ছুটির বিশেষ পরিকল্পনা। সামান্য পরিকল্পনার মাধ্যমেই এই পাঁচ দিন নিজের পছন্দমতো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
পরিবারের সঙ্গে কাটুক আনন্দের সময়
কাজের প্রবল চাপে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনেক সময় মন খুলে কথা বলা বা একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায় না। ছুটির এই দিনগুলোতে সেই সুযোগটি কাজে লাগানো যেতে পারে। সন্তানদের সঙ্গে খেলাধুলা করা, সবাই মিলে পছন্দের কোনো খাবার তৈরি করে খাওয়া কিংবা কাছাকাছি কোনো স্থানে ঘুরে আসা হতে পারে দারুণ অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া কিংবা দূরে থাকা আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেওয়ার জন্যও সময় বের করা যেতে পারে।
ছুটিতে প্রিয় মানুষটির জন্য ছোট কোনো উপহার কেনা যেতে পারে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, দামি উপহারের চেয়ে একান্তে কাটানো কিছু মুহূর্ত অনেক বেশি মূল্যবান। প্রিয়জনকে নিয়ে পছন্দের রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া কিংবা পাশাপাশি বসে গল্প করা সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে পারে। এছাড়া বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকলে তার যত্ন নেওয়া এবং তার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও নেওয়া যেতে পারে।
নতুন কিছু শেখার সুযোগ
দীর্ঘ এই অবসর হতে পারে পুরনো শখ ফিরিয়ে আনা কিংবা নতুন কিছু শেখার উপযুক্ত সময়। একসময় গিটার বাজানো, ছবি আঁকা বা রান্না শেখার ইচ্ছা থাকলেও ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয়নি—এবার সেই শুরু করার সুযোগ। অনলাইনে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও দেখে নতুন কোনো দক্ষতা অর্জনের চেষ্টাও করা যেতে পারে।
সাঁতার শেখা, নতুন কোনো ভাষা আয়ত্ত করা কিংবা কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার মতো কাজগুলো শুরু করা সম্ভব। এসব দক্ষতা ব্যক্তিগত আগ্রহ পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের পেশাগত কাজেও সহায়ক হতে পারে। তবে ছুটির সবটুকু সময় কেবল শেখার পেছনে ব্যয় না করে নিজের আনন্দ ও বিশ্রামের জন্যও পর্যাপ্ত সময় রাখা জরুরি।
সৃজনশীল কাজে কাটুক অবসর
একঘেয়েমি দূর করতে সৃজনশীল কাজের কোনো বিকল্প নেই। ছুটির দুপুরে রং-তুলি নিয়ে বসতে পারেন। ছবি আঁকায় খুব দক্ষ না হলেও সমস্যা নেই; মনের ভাব প্রকাশের চেষ্টা করাটাই এখানে মুখ্য। চাইলে খাতা-কলম নিয়ে নিজের ভাবনা, অভিজ্ঞতা কিংবা ছোট গল্প লেখা যেতে পারে।
বই পড়া, গান শোনা, বাগান করা কিংবা নতুন কোনো রেসিপি দিয়ে রান্না করাও হতে পারে অবসর কাটানোর চমৎকার উপায়। বন্ধুদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিজের হাতে তৈরি খাবার পরিবেশন করলে ছুটির আনন্দ আরও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
জমে থাকা কাজগুলো গুছিয়ে নিন
ছুটির দিনগুলোতে ঘরের কিছু জরুরি কাজও সেরে ফেলা যায়। আলমারি গোছানো, কাপড় ইস্তিরি করা, ঘর পরিষ্কার করা কিংবা বারান্দার গাছগুলোর যত্ন নেওয়ার মতো কাজের জন্য সময় বের করা যেতে পারে। অনেক দিন ধরে ফেলে রাখা ছোটখাটো কাজগুলো শেষ হলে মনে এক ধরণের প্রশান্তি ও স্বস্তি আসে।
তবে ছুটির সব দিন কেবল ঘরের কাজে ব্যস্ত না থেকে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত। এতে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার পাশাপাশি প্রকৃত অবসর উপভোগের সুযোগ থাকবে।
নিজের জন্যও রাখুন কিছুটা সময়
সারা বছর কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে নিজের যত্ন নেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ছুটির দিনগুলোতে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার এবং হালকা ব্যায়ামের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন। সকালে বা বিকেলে হাঁটতে বের হতে পারেন। কাছাকাছি কোনো পার্ক কিংবা খোলা জায়গায় কিছুক্ষণ সময় কাটালেও মন ভালো হতে পারে।
চাইলে সিনেমা দেখতে যেতে পারেন, কোনো প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে পারেন কিংবা নতুন একটি বই পড়া শুরু করতে পারেন। এক কাপ চা বা কফি নিয়ে নিরিবিলি বসে থাকা কিংবা পছন্দের গান শোনার মধ্য দিয়েও মানসিক প্রশান্তি পাওয়া সম্ভব।
ঘুরে আসুন কাছেপিঠে
পাঁচ দিনের এই ছুটিতে দূরে কোথাও যাওয়ার সুযোগ থাকলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। তবে দূরে যাওয়া সম্ভব না হলেও মন খারাপের কিছু নেই। কাছাকাছি কোনো পার্ক, বিনোদনকেন্দ্র কিংবা ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলো ঘুরে দেখা একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারে।
ভ্রমণে যাওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, সম্ভাব্য যানজট, ভিড় এবং খরচের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখা উচিত। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করলে বাড়তি আর্থিক চাপ ছাড়াই এই ছুটি উপভোগ করা সম্ভব।