চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পদ নিয়ে চলমান অস্থিরতা ও অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ নিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আহ্বানের প্রেক্ষিতে আজ সোমবার এই কমিটি গঠন করা হয়।

এর আগে গতকাল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইউজিসিকে চিঠি পাঠিয়ে এই ধরনের একটি কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুনকে এই পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল ফোরকান, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ ইউসুপ ইলাহী চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী এবং ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. মহিবুল আহসান (সদস্যসচিব)। এছাড়া কমিটির দাপ্তরিক ও সাচিবিক সহায়তার জন্য ইউজিসির একজন সহকারী পরিচালককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই বিশেষ পরামর্শক কমিটি চুয়েটের বর্তমান অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা এবং পুনরায় শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে ইউজিসির কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৭ জুলাই সরকার চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তাঁর পরিবর্তে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাম্পাসে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের এই দাবির সাথে একাত্ম হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন। এই পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে আছে।