ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একটি ডাবের দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ ডাবের উৎপত্তিস্থলে আকার নির্বিশেষে প্রতিটি ডাবের গড় দাম মাত্র ৬০ থেকে ১০০ টাকা। উৎপত্তিস্থল থেকে ঢাকায় আসার পর আড়ত, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ডাবের দাম কতটা যৌক্তিকভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ডাবের আড়ত, পাইকারি ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস সালাম। অভিযানে অনিয়মের দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার বাজারে ডাব মূলত নাজিরপুর, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসে। উৎপত্তিস্থলে প্রতিটি ডাবের গড় বিক্রয়মূল্য ৬০-১০০ টাকা। তবে ঢাকায় আনার পর আড়তে ডাবগুলোকে ছোট, মাঝারি ও বড়—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে বিক্রি করা হয়।

ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আড়তে ছোট ডাবের পাইকারি দাম ৬০ টাকা, মাঝারি ডাবের ১০০ টাকা এবং বড় ডাবের ১৪০ টাকা। এর পাশাপাশি প্রতি ১০০ টাকা লেনদেনের বিপরীতে আড়তদাররা ছয় টাকা কমিশন গ্রহণ করেন। এরপর পাইকারি পর্যায় থেকে ডাব সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রেতারা বিভিন্ন এলাকায় তা বিক্রি করেন, যার মূল্য সাধারণত ১৬০-২০০ টাকা হয়ে থাকে।

বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ডাবের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এসব এলাকার খুচরা বিক্রয় প্রক্রিয়াটি অভিযানের আওতায় আনা হয়। প্রথমে সাদেক খান কৃষি মার্কেটের ডাবের আড়তে তদারকি করা হয়। এরপর কলেজ গেট এলাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট, হাসপাতালের সামনে এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনের ডাবের দোকানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজপত্র, রসিদ ও মূল্যতালিকা যাচাই করা হয়। তদারকিতে দেখা যায়, অনেক ব্যবসায়ী ক্রয়-বিক্রয়ের পাকা রসিদ সংরক্ষণ করেননি, অনেকের ট্রেড লাইসেন্স ছিল না এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন। এসব অনিয়মের দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।