দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পানাম নগরী। প্রাচীন স্থাপত্য, সারি সারি পুরোনো ভবন এবং ঐতিহ্যের নানা স্মারক দেখতে এখানে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক নগরীর সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যে মুগ্ধ হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে এক প্রতিনিধিদল নিয়ে পানাম নগরীতে এসে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি নগরীর ৩৩ নম্বর ভবন থেকে তাঁর পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর একে একে ঐতিহাসিক নগরীর বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা ঘুরে দেখেন তিনি। সেখানে খুব অল্প সময় অবস্থান করলেও পানাম নগরীর সামগ্রিক পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
এই সফরটি ছিল মূলত একটি পারিবারিক ভ্রমণ। পানাম নগরীর সহকারী কাস্টোডিয়ান তানজিলুর রহমান জানান, “রাষ্ট্রদূত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পানাম নগরী ঘুরতে এসেছিলেন।”
পানাম নগরী পরিদর্শনের পর সকাল ৯টার দিকে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে যান। সেখানে তিনি কারুপল্লির সুঁই-সুতা দিয়ে তৈরি নকশিকাঁথা এবং জামদানি পল্লি পরিদর্শন করেন। তাঁতিদের হাতে বোনা জামদানি শাড়ির নিখুঁত কারুকাজ এবং নকশিকাঁথার শৈল্পিক নকশা দেখে তিনি অত্যন্ত মুগ্ধ হন। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি ফাউন্ডেশনের জাদুঘর এবং বড় সরদারবাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, “মার্কিন রাষ্ট্রদূত জামদানি পল্লিতে তাঁতিদের হাতে বোনা শাড়ির কারুকাজ দেখেছেন। নকশিকাঁথা ও জামদানি শাড়ির কারুকাজ দেখে তিনি মুগ্ধ হন। পরে আবারও এখানে আসবেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।”
পরিদর্শনকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে তাঁর প্রতিনিধিদলে ছিলেন ব্যক্তিগত দেহরক্ষী দেলোয়ার হোসাইন, রাজনৈতিক কর্মকর্তা অ্যালিস কেনেডি, দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায়, নিরাপত্তা কর্মকর্তা অ্যারিক ওয়েলস এবং মার্কিন দূতাবাসের ফরেন সার্ভিস ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটর শেখ শিবলীসহ আরও অনেকে। এছাড়া সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন।