বর্তমান অনলাইন জগতের একটি বিশাল অংশ জুড়ে এখন দৃশ্যমান মানুষের চেয়ে অদৃশ্য এক প্রযুক্তির আধিপত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বিশেষ প্রযুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বট’। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বট হলো এক ধরনের বিশেষ সফটওয়্যার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যা মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই নির্দিষ্ট কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম। মূলত মানুষের আচরণের অনুকরণে তৈরি এই প্রোগ্রামগুলো এমন সব কাজ, যা বারবার করতে হয়, তা মানুষের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুতগতিতে এবং নির্ভুলভাবে সম্পাদন করতে পারে।
একটি অবাক করা তথ্য হলো, বর্তমানে গোটা ইন্টারনেটের মোট ট্রাফিকের অর্ধেকের বেশি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে বিভিন্ন ধরনের বট। প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করা, ওয়েবপেজে ইন্টারঅ্যাক্ট করা কিংবা গ্রাহকসেবায় ব্যবহারকারীর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এখন বটের মাধ্যমেই সামলানো হচ্ছে। প্রতিটি বটেরই নিজস্ব আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ঠিকানা থাকে, যার মাধ্যমে ইন্টারনেটে এদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তবে ইন্টারনেট দুনিয়ায় বটের ভূমিকা অনেকটা মুদ্রার দুই পিঠের মতো। এর যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে ক্ষতিকর প্রভাবও। ইন্টারনেটের অগণিত তথ্যকে সুবিন্যস্ত করে রাখা এবং সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে খুব সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে উপকারী বটগুলো। এছাড়া বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের চ্যাটবটগুলো ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থেকে গ্রাহকদের নানা প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দিয়ে সহায়তা প্রদান করে থাকে।
অন্যদিকে, সাইবার অপরাধীরা এই বট প্রযুক্তিকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকে। এগুলো মানুষের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অনধিকার প্রবেশ করা, স্প্যাম মেসেজ পাঠানোর জন্য ই–মেইল ও যোগাযোগ নম্বর চুরি করা কিংবা বড় ধরনের সাইবার আক্রমণের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে।
সূত্র: ক্লাউডফ্লেয়ার