মাত্র ১৮ বছর বয়সেই মেক্সিকোর ফুটবল অঙ্গনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন গিলবার্তো মোরা। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বর্তমানে ইউরোপীয় ফুটবলে তাঁর ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে ফুটবল মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই মাঝে এই তরুণ মিডফিল্ডারের জীবনে এল এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত, যা তাঁর কাছে হয়তো যেকোনো বড় ট্রফি জয়ের চেয়েও বেশি আনন্দের।

বিশ্বফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি তাঁর বাছাই করা একটি বিশেষ তালিকায় স্থান দিয়েছেন মোরাকে। শুধু তাই নয়, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের কাছ থেকে বিশেষ একজোড়া ফুটবল বুট উপহার পেয়েছেন এই তরুণ ফুটবলার।

ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের ‘মেসি +১০’ প্রচারণার তৃতীয় মৌসুমে বিশ্বের ১০ জন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফুটবলারকে ‘আগামীর তারকা’ হিসেবে নির্বাচিত করেছেন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়া বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক। এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন মেক্সিকোর ক্লাব জোলোস দে তিহুয়ানার মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরাও।

মেসির নির্বাচিত ১০ জনের একজন হওয়াটাই একজন ফুটবলারের জন্য বিশাল প্রাপ্তি। এর পাশাপাশি উপহার হিসেবে মোরার হাতে পৌঁছেছে অ্যাডিডাসের বিশেষ সংস্করণের একজোড়া এফ৫০ ফুটবল বুট। ‘ফুটবল ই ফামিলিয়া’ সংস্করণের এই বুটটির রং গোলাপি, সাদা ও কালো। বুটের জিহ্বার অংশে খোদ করা রয়েছে মেসির নিজস্ব লোগো।

স্বপ্নপুরণের এই বিশেষ বুট পাওয়ার পর নিজের উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেননি মোরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মেসি ও অ্যাডিডাসকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন এই মেক্সিকান ফুটবলার। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘মেসি +১০ প্রকল্পের অংশ হতে পারাটা সম্মানের। আমাকে বেছে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ মেসি ও অ্যাডিডাসকে। আপনার বুট পরে খেলতে পারাটা হবে আমার স্বপ্নপূরণ।’

তবে মোরার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হঠাৎ করে আসেনি। ক্লাব জোলোস দে তিহুয়ানার হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি সবার নজর কেড়েছেন। মেক্সিকো জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে মেক্সিকোর ফুটবলে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের একজন হিসেবেই গণ্য হচ্ছেন এই মিডফিল্ডার।

মেসির বিশেষ তালিকায় স্থান পাওয়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে মোরার পরিচিতি আরও বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি মেক্সিকোর তরুণ ফুটবল প্রতিভার জন্য একটি বড় ধরনের স্বীকৃতি। মোরার ভবিষ্যৎ গন্তব্য নিয়েও ফুটবল প্রেমীদের মনে প্রবল কৌতূহল রয়েছে। ইউরোপের কোন ক্লাবে তিনি যোগ দেবেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

ভবিষ্যতের সেই পরিকল্পনা আপাতত সরিয়ে রেখে বর্তমানের এই অনন্য আনন্দটাই উপভোগ করছেন মোরা। কারণ, মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি এমন এক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন, যা বিশ্বের কোটি কোটি তরুণ ফুটবলারের আজন্ম লালিত স্বপ্ন।