এক সময় তিনি নিজেই ছিলেন ফুটবল বিশ্বের এক বিস্ময়বালক। আর্জেন্টিনার রোজারিও থেকে বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়ে এক কিশোর ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। তাঁর বাঁ পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছিল বিশ্ব। তবে সেই জাদু তাঁকে সাফল্যের যে শিখরে নিয়ে যাবে, তা হয়তো শুরুতে কেউ কল্পনা করতে পারেনি।

এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো, রচিত হলো অসংখ্য ইতিহাস। সেই কিশোর একদিন বিশ্বকাপের ট্রফি জিতলেন। ফুটবলের প্রায় সবকটি সম্মাননা ও মুকুট আসলো তাঁর মাথায়। লিওনেল মেসি হয়ে উঠলেন একটি প্রজন্মের স্বপ্ন এবং অন্য একটি প্রজন্মের আদর্শ।

এখন সেই মেসিই খুঁজে বের করেছেন আগামী দিনের ১০ জন ফুটবল তারকাকে, যাঁদের পায়ের জাদুতে আগামীর ফুটবল নতুন কোনো গল্প লিখতে পারে।

ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের ‘মেসি +১০’ প্রচারণার তৃতীয় মৌসুমে বিশ্বের ১০ জন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফুটবলারকে বেছে নিয়েছেন সম্প্রতি আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানানো বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক। এই তালিকায় সাতজন ছেলে এবং তিনজন মেয়ে ফুটবলার স্থান পেয়েছেন।

রোববার এই প্রচারণার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে অ্যাডিডাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘অ্যাডিডাস ফুটবল’ অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে লেখা হয়েছে, “এগিয়ে নেওয়ার মতো এক উত্তরাধিকার। এখান থেকেই শুরু পরবর্তী অধ্যায়। পরিচিত হোন মেসি +১০-এর তৃতীয় মৌসুমের উদীয়মান তারকাদের সঙ্গে। ১০টি অধ্যায়, যা নতুন করে লিখবে ফুটবলের ভবিষ্যৎ। এ এমন এক গল্প, যার কেবল শুরু।”

তবে কারা সেই ১০ জন উদীয়মান তারকা? এই তালিকায় সবচেয়ে পরিচিত নাম হতে পারে আর্সেনালের ১৬ বছর বয়সী ইংলিশ বিস্ময়বালক ম্যাক্স ডাউম্যান। ইংলিশ ফুটবলে তাঁকে ঘিরে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অল্প বয়সেই আর্সেনালের মতো বড় ক্লাবে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা ডাউম্যান এবার মেসির পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

তালিকায় আছেন মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা। তিহুয়ানার এই তরুণ ফুটবলারকে নিয়ে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর আগ্রহের কথা বেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে দলে ভেড়ানোর দৌড়ে এগিয়ে আছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ।

আর্জেন্টাইনদের জন্য এই তালিকার সবচেয়ে আবেগঘন নাম সম্ভবত তোমাস আরান্দা। বোকা জুনিয়র্সের এই তরুণ প্লেমেকার বল পায়ে সৃজনশীলতা, কারিগরি দক্ষতা এবং খেলার গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির দৃষ্টিও তাঁর প্রতি আকর্ষণ করেছে। বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচের সফরের দলেও আরান্দাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন স্কালোনি।

তবে বর্তমানে তাঁর লড়াইটা মাঠের বাইরে। ডান পায়ের ফিবুলা হাড় ভেঙে যাওয়ায় চোট কাটিয়ে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। ফুটবল প্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন তিনি কবে মাঠে ফিরবেন এবং বল পায়ে নিজের নতুন গল্প লিখবেন।

এছাড়া তালিকায় স্থান পেয়েছেন তুরস্কের জান উজুন, যিনি জার্মানির আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টে খেলেন। স্পেনের হেসুস রদ্রিগেজ খেলছেন ইতালির কোমোতে। নেদারল্যান্ডসের কেস স্মিত আছেন এজেড আলকমারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেভিয়ার গুজো ইংল্যান্ডের ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলছেন।

মেসির চোখে সেরা দশে জায়গা পেয়েছেন নারী ফুটবলের তিন উদীয়মান প্রতিভাও। ইংল্যান্ডের ক্লোয়ি সারয় খেলেন চেলসিতে, ব্রাজিলের জিওভান্না ওয়াকসমান ফ্রান্সের অলিম্পিক লিওঁতে এবং জার্মানির লোটা ফ্রিডে খেলছেন হামবুর্গে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল ‘মেসি +১০’ প্রচারণা। প্রথম মৌসুমে ১০ জন উদীয়মান ফুটবলারকে বেছে নিয়েছিলেন মেসি, যাঁদের মধ্যে ছিলেন বার্সেলোনার বর্তমান তারকা লামিনে ইয়ামাল। প্রচারণার দ্বিতীয় মৌসুমটি এসেছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। সেবার নির্বাচিতদের মধ্যে ছিলেন নিকো পাজ, রিও এনগুমোহা ও আন্দ্রে সান্তোসের মতো প্রতিভাবান ফুটবলাররা। এবার তৃতীয় মৌসুমে নতুন ১০ মুখ এবং নতুন ১০টি স্বপ্ন সামনে এসেছে।

অবশ্য মেসির তালিকায় স্থান পাওয়া মানেই যে কেউ ভবিষ্যতের মহাতারকা হয়ে যাবেন, তেমন নিশ্চয়তা নেই। ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক বিস্ময়বালক এসেছেন, যাঁরা কৈশোরে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেলেও পরে বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে গেছেন। আবার কেউ কেউ প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি সফল হয়েছেন। এই ১০ জনের ভাগ্য শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলে দেবে।