বার্সেলোনার বর্তমান প্রজন্মের কাছে লিওনেল মেসির চেয়ে বেশি জনপ্রিয় লামিনে ইয়ামাল। নিজের পরিবারের চার শিশুর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ক্লাবটির সাবেক সভাপতি হোয়ান গাসপার্ত। তিনি জানান, পরিবারের ছোটদের কাছে মেসির চেয়ে ইয়ামালের আকর্ষণ এখন অনেক বেশি।
স্প্যানিশ ফুটবলবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘সোলো পারা কুলেস টিভি’-তে মেসিকে নিয়ে আলোচনার সময় এই ঘটনাটি বর্ণনা করেন গাসপার্ত। তিনি তার নাতি-নাতনিসহ পরিবারের চার সন্তানকে বার্সেলোনার জার্সি কিনে দিতে চেয়েছিলেন। জার্সিতে কার নাম লেখা থাকবে—মেসি নাকি ইয়ামাল, তা জানতে চাইলে সবাই একসুরে ইয়ামালের নাম বেছে নেয়।
সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে গাসপার্ত বলেন, ‘আমি ওদের বললাম, জার্সিতে মেসির নাম লিখব নাকি লামিনের? ওরা বলল, দাদু, অবশ্যই লামিনে! তারপর জানতে চাইল, অন্য যে খেলোয়াড়ের কথা বললে, সে কে?’
আর্জেন্টাইন মহাতারকার পরিচয় দেওয়ার পরও ছোটদের কৌতূহল শেষ হয়নি। তারা জানতে চায় মেসি কি সত্যিই ভালো খেলোয়াড় ছিলেন কি না। গাসপার্ত জানান, ‘আমি বললাম, লিওনেল মেসি। তখন ওরা জানতে চাইল, সে কি ভালো খেলোয়াড় ছিল? আমি বললাম, সে অসাধারণ ফুটবলার ছিল, আমার দেখা ইতিহাসের সেরা। তারপরও ওদের কথা, দাদু, তবু আমি লামিনের জার্সিই চাই।’
বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের সাক্ষী হোয়ান গাসপার্ত। লিওনেল মেসি যখন মাত্র ১৩ বছর বয়সে এই ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন, তখন সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে সময়ের পরিবর্তনে এখন তার পরিবারের নতুন প্রজন্মের কাছে মেসির চেয়ে ইয়ামাল বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছেন।
তবে কেবল পারিবারিক অভিজ্ঞতাই নয়, একই সাক্ষাৎকারে মেসিকে নিয়ে কড়া বার্তাও দিয়েছেন গাসপার্ত। বার্সেলোনা ছাড়ার পাঁচ বছর হয়ে গেলেও সমর্থকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। মেসির প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা থাকলেও ক্লাবের গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন সাবেক এই সভাপতি।
মেসির উদ্দেশে গাসপার্ত বলেন, ‘ফুটবলার হিসেবে লিওকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সে বিশ্বের সেরা। কিন্তু একটি বিষয় তার ভুলে গেলে চলবে না, বার্সেলোনা তার চেয়েও বড়। তার সতর্ক থাকা উচিত।’
গাসপার্তের মতে, মেসি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে বার্সেলোনার যে অবদান রয়েছে, তা আর্জেন্টাইন তারকার ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
২০২১ সালে অত্যন্ত আকস্মিকভাবে বার্সেলোনা ছাড়তে হয়েছিল মেসিকে। সেই বিদায়ের সময় সমর্থকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলার সুযোগ পাননি তিনি। পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও ক্যাম্প ন্যুতে তাঁর কোনো বিদায়ী সংবর্ধনা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হয়, বর্তমান সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার সঙ্গে মেসির শীতল সম্পর্কের কারণেই এই সংবর্ধনা আটকে আছে। ২০২১ সালে ক্লাব ছাড়ার ঘটনাটিই দুজনের মধ্যে দূরত্বের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তবে গাসপার্ত মনে করেন, সভাপতি যেই হোন না কেন, সমর্থকদের বিদায় জানাতে মেসির ফিরে আসা উচিত। লাপোর্তার উপস্থিতির কারণে মেসি যদি সংবর্ধনায় না আসেন, তবে তিনি নিজেও সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না বলে জানিয়েছেন।
গাসপার্তের ভাষায়, ‘লাপোর্তা সভাপতি থাকুক বা না থাকুক, তার আসা উচিত। যদি লাপোর্তা দায়িত্বে নেই বলেই সে সংবর্ধনায় আসে, তাহলে আমি সেই অনুষ্ঠানে যাব না। সে নিজেকে কী মনে করে? বার্সেলোনায় আসার বিষয়টি লাপোর্তা সভাপতি আছেন কি নেই, তার ওপর নির্ভর করবে কেন?’
উল্লেখ্য, লাপোর্তার উপস্থিতির কারণে সংবর্ধনায় অংশ নেবেন না—এমন কোনো শর্ত মেসি প্রকাশ্যে দিয়েছেন বলে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। গাসপার্ত মূলত এমন একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির বিপরীতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
বার্সেলোনার হয়ে ৭৭৮টি ম্যাচে ৬৭২টি গোল করেছেন মেসি। তিনি জিতেছেন ১০টি লা লিগা এবং চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ মোট ৩৫টি শিরোপা। ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তিনি অমর হয়ে আছেন।