আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজে পেসার নাহিদ রানার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসাধীন এই দ্রুতগতির বোলারের পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরতে আরও দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিসিবি প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দেশের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সুস্থ হওয়ার এই সময়সীমা কিছুটা কমবেশি হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি বলেন, ‘অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহের কথা আলোচনা হয়েছে।’
চিকিৎসকদের মতে, কেবল শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে অনুশীলনে ফিরলেই নাহিদ সরাসরি ম্যাচ খেলার উপযোগী হয়ে উঠবেন না। বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শারীরিক সুস্থতা মানে হলো পুনরায় ক্রিকেটের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করার সক্ষমতা অর্জন করা। তবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে খেলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রক্রিয়া।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১০ দিনের প্রাথমিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে দেশে ফিরবেন নাহিদ। এরপর দেশের মাটিতেই তার পুনর্বাসনের পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করা হবে। বর্তমানে তিনি বোলিং থেকে দূরে থেকে কেবল সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় মনোনিবেশ করছেন।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ে সফরের সময় শরীরের পাশের পেশিতে গুরুতর চোট পান এই পেসার। সেই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে তিনি অংশ নিতে পারেননি। পুরোনো সেই চোট কাটিয়ে পুনরায় বোলিংয়ে ফেরার চেষ্টা করার সময় পিঠের নিচের অংশ ও নিতম্বে তীব্র অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি।
দেশে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে বিসিবির চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রয়োজনীয় পেশিশক্তি ফিরে না পাওয়ার কারণেই তিনি এই অস্বস্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগে তাকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ক্রিকেট বোর্ড। আর এই কারণেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও উন্নত চিকিৎসার জন্য নাহিদকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
আগামী ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে।