সাইড স্ট্রেইনের চোট কাটিয়ে পুনরায় মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের পেস তারকা নাহিদ রানা। তবে অনুশীলনে ফেরার পর নতুন করে নিতম্বে ব্যথার সমস্যায় পড়েছেন তিনি। দেশে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও গুরুতর কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। তা সত্ত্বেও কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফলে উন্নত চিকিৎসা এবং সঠিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তাকে আবারও অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতেই অস্ট্রেলিয়ার পার্থের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বেন নাহিদ। সেখানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পিটার ডি আলেসান্দ্রোর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে ক্রীড়াবিদদের চোট নিরাময়ে পার্থের এই চিকিৎসকের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, নাহিদের যাবতীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট ইতিমধ্য়েই ওই চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিকিৎসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে নাহিদ চাইলে বাংলাদেশেই তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার আগে তাকে মাঠে ফেরানোর ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি। এই কারণেই তাকে সরাসরি অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পার্থে পৌঁছানোর পর নাহিদ প্রথমে কিছু শারীরিক পরীক্ষা করাবেন। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছে বিসিবি। এই পুরো প্রক্রিয়াটি চিকিৎসকের পাশাপাশি স্থানীয় একজন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। তবে চিকিৎসকের সরাসরি মূল্যায়নের পরেই পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হবে।

গত জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ে সফরের সময় সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়েছিলেন নাহিদ রানা। সেই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে তিনি অংশ নিতে পারেননি। পরবর্তীতে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টেও দলের বাইরে ছিলেন এই পেসার।

এর আগে জুলাই মাসের শেষ দিকে চিকিৎসার প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন নাহিদ। সেবার তাসকিন আহমেদের সঙ্গে পার্থে গিয়ে সাইড স্ট্রেইনের পাশাপাশি পায়ের পুরোনো সমস্যার পরীক্ষা করিয়েছিলেন তিনি। আগস্টের শুরুতে দেশে ফিরে পুনর্বাসন শুরু করেন এই পেসার।

চোট পাওয়ার পর প্রায় এক মাস ভারী ব্যায়াম এবং বোলিং থেকে দূরে ছিলেন নাহিদ। পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে অনুশীলনে ফিরে প্রথমে ছোট রানআপে বোলিং শুরু করেন তিনি। তবে ধীরে ধীরে রানআপ বাড়ানোর পর নিতম্বে নতুন করে ব্যথার অনুভূতি হয় তার।

ঢাকায় করা স্ক্যানে গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া না গেলেও বিসিবি চিকিৎসকদের ধারণা, দীর্ঘ সময় অনুশীলনের বাইরে থাকায় বোলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পেশিশক্তি পুরোপুরি ফিরে পাননি নাহিদ। বিশেষ করে পিঠের নিচের অংশ এবং নিতম্বসংলগ্ন পেশির দুর্বলতার কারণে এই ব্যথা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে ব্যথার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নতুন এই শারীরিক জটিলতার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই টেস্টের সিরিজে তার খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরে প্রথম টেস্ট এবং ৫ নভেম্বর সিলেটে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে।

নাহিদ রানাকে নিয়ে বিসিবির মূল লক্ষ্য এখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। আগামী ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে শুরু হতে যাচ্ছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। তবে সেই সিরিজে তাকে পাওয়া যাবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসকের মূল্যায়ন এবং পুনর্বাসনের অগ্রগতির ওপর।