বিশিষ্ট কবি, লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহারের মতে, লালনবাদ বলে আলাদা কোনো মতবাদ নেই, বরং এর সবকিছুই গুরুবাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মনে করেন, লালন শাহের প্রকৃত দর্শন বুঝতে হলে বাউলদের পরিবর্তে ফকিরদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্য চলাকালীন ফরহাদ মজহার উল্লেখ করেন যে, লালনকে কেবল 'বাউল' হিসেবে চিহ্নিত করার প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে তাকে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, লালনের কোনো গানেই 'বাউল' শব্দটির ব্যবহার নেই। তার মতে, বাউল বলে কিছু নেই, বরং এখানে রয়েছে ফকির। তিনি আরও বলেন, বিদেশিরা বাউল বলে কিছু চেনে না। তাই লালন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হলে বাউলদের বদলে ফকিরদের সঙ্গে বসতে হবে।
লালন একাডেমিতে লালনগীতির মূল কথা ও সুর পরিবর্তন করে পরিবেশন করার বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এই চিন্তক। তিনি বলেন, “একাডেমিতে অনেক গানের পরিবর্তন করা হয়। এ ধরনের পরিবর্তনের এখতিয়ার তাদের নেই।”
ফরহাদ মজহার অভিযোগ করেন যে, অনুষ্ঠানের আগের দিনও তিনি লক্ষ্য করেছেন অনেক গানের কথা ও সুর পরিবর্তন করে পরিবেশন করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, লালনের সংগীত নিয়ে আরও গভীর গবেষণা ও কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে কথা বলার সময় প্রখ্যাত শিল্পী ফরিদা আক্তারের প্রসঙ্গটি সামনে আনেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ফরিদা আক্তারের আগে লালনগীতি পল্লীগীতির সুরে গাওয়া হতো। তার দাবি, এই অনুষ্ঠানে ফরিদা আক্তারকে সম্মানিত করা দরকার ছিল। তাকে যথাযথ সম্মান জানানো হয়নি বলে তিনি নিজের বক্তব্যটি ফরিদা আক্তারের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) আবদুল্লাহ হারুন।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান এবং কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে থাকা নাভিদ সারওয়ার।
আলোচনা সভা শেষে মূল মঞ্চে লালন একাডেমির শিল্পী এবং দেশবরেণ্য লালনশিল্পীরা ফকির লালন শাহের আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন।