চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা জানা গেছে, যেখানে অটোরিকশার যাত্রী সেজে আসা দুই নারীর বিরুদ্ধে এক তরুণকে চেতনানাশক স্প্রে করে অজ্ঞান করার এবং তার কাছ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরদিন রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে ওই তরুণ সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।
গত শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকার মনু মিয়ার মসজিদসংলগ্ন সড়ক থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ওই তরুণকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী তরুণের পরিচয় পাওয়া গেছে মো. জাবেদ উদ্দিন (২২) হিসেবে। তিনি উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ইদ্রিছ চেয়ারম্যান বাড়ির বরফমিল এলাকার মোহাম্মদ মুসার ছেলে এবং পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মো. জাবেদ উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে জানান, তার পরিবারের প্রায় সাত লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। সেই ঋণের আংশিক পরিশোধের জন্য তার প্রবাসী বড় ভাই ব্যাংকের মাধ্যমে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা পাঠান। গতকাল চাতরী চৌমুহনী বাজার থেকে ওই টাকা তুলে তিনি অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে অটোরিকশার পেছনের আসনে তার পাশে দুই নারী বসেন। কিছু দূর যাওয়ার পর ওই নারীদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তিনি গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় ওই নারীরা তাকে টেনে ধরে মুখে চেতনানাশক কিছু স্প্রে করেন। এতে তিনি সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
জাবেদ আরও বলেন, “হুঁশ ফেরার পর দেখি আমি হাসপাতালে এবং আমার সঙ্গে থাকা ১ লাখ ২৭ হাজার টাকাও নেই। বুঝতে পারি, ওই নারীরা টাকাগুলো নিয়ে আমাকে বেহুঁশ অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে গেছেন।” এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।
আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো. মুজিবুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে জানান, তাদের একটি দল গতকাল রাতে পূজামণ্ডপের ডিউটি শেষে ফেরার পথে রাস্তার পাশে লোকজনের জটলা দেখে এগিয়ে যায়। পরে সেখানে এক তরুণকে বেহুঁশ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জাবেদকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার শরীরে প্রচণ্ড কাঁপুনি ছিল। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মুখে চেতনানাশক স্প্রে করা বা কোনো কিছু খাওয়ানোর কারণে তার এই অবস্থা হয়েছিল।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে জানান, “ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, পাশাপাশি পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।”