শরীয়তপুর পৌরসভার একটি ভাড়া বাসা থেকে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িচালক মো. বাদশা সরদার এবং তিন নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ওই বাসাটি থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার পাকার মাথা এলাকার উক্ত বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভায় যোগ দিতে শরীয়তপুরে আসেন ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আইয়ুবী। তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নামিয়ে দেওয়ার পর সরকারি গাড়ি নিয়ে পাকার মাথা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় যান গাড়িচালক বাদশা সরদার। ওই বাসাটিতে তিন নারী ভাড়া থাকতেন। সেখানে বাদশা সরদারের যাতায়াত নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয় এবং তারা ওই বাসায় গিয়ে চালকসহ তিন নারীকে আটক করেন। পরবর্তীতে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
আত্রিক এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত মাসে ওই তিন নারী বাসাটি ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই সেখানে বিভিন্ন পুরুষের যাতায়াত লক্ষ্য করা গেছে। বাদশা সরদারকেও বিভিন্ন সময়ে ওই বাসায় যেতে দেখা গেছে বলে তারা দাবি করেন।
বাসাটির কেয়ারটেকার জানান, বাদশা সরদার ওই তিন নারীকে নিজের খালাতো বোন পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া নিতে সহায়তা করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করতেন।
আটক নারীদের একজন দাবি করেন, বাদশা তার ভাই এবং সেই সম্পর্কেই তিনি বাসায় আসতেন। তার অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন বাসায় ঢুকে তাদের কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তারা ঘরের ভেতরে মাদক সেবনের সরঞ্জাম রেখে পুলিশকে খবর দেন।
অন্যদিকে, বাদশা সরদারের দাবি, ওই নারীরা তার আত্মীয় নন; তবে তাদের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তারা দীর্ঘ দিন ধরে বাসা ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ করছিলেন। রোববার সভার কাজে শরীয়তপুরে এসে ইউএনওকে নামিয়ে দেওয়ার পর তাদের সঙ্গে কথা বলতে তিনি ওই বাসায় যান। সেখানে যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন এসে দরজায় কড়া নাড়েন। দরজা খোলার পর তারা ওই বাসায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে বলে অভিযোগ করেন। সেখানে ঠিক কী ঘটছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
পালং মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস শুকুর বলেন, “ওই বাসায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের খবর পেয়ে পুলিশ যায়। সেখান থেকে মাদক সেবনের কিছু সরঞ্জামসহ তিন নারী ও একজন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আইয়ুবী জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং তার দপ্তর থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।