বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমানের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহনাজ আক্তার ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এই ঘটনার পর শাহনাজ আক্তারসহ ওই থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর শাহনাজ আক্তারের করা জিডির একটি অনুলিপি সংগ্রহ করেছে এই সংবাদপত্রের প্রতিবেদক। উক্ত জিডিতে ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় গালাগাল করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ আনা হয়েছে।

জিডিতে বর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে ওসির স্ত্রী আঞ্জুমান থানায় প্রবেশ করেন। সেখানে ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসে থাকা এএসআই শাহনাজ আক্তারের উদ্দেশ্যে তিনি অশালীন ভাষায় কথা বলেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, রাতের বেলা ওসির কক্ষে যাওয়া এবং চাকরিতে আসা নিয়ে আঞ্জুমান আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এই ঘটনায় শাহনাজ আক্তার মানসিকভাবে অত্যন্ত বিব্রত ও অপমানিত হয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিডিতে আরও বিস্তারিত জানানো হয়, গত মার্চ মাসে শাহনাজ আক্তারের ভাইয়ের বিয়ের জন্য জরুরি ছুটির প্রয়োজন ছিল। সেই ছুটির ব্যবস্থা করতে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তিনি থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তীতে ওসির অর্ডারলির মাধ্যমে ছুটির অনুমতি চেয়ে আবেদন জানান।

ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে তিনি জানতে পারেন যে, থানার আরেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে ওসির স্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, শাহনাজ আক্তারের সঙ্গে ওসির অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। জিডিতে এই অভিযোগের বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে। তবে শাহনাজ উল্লেখ করেছেন, ওই সময়ে তিনি নিজে কথাগুলো শোনেননি। পরবর্তীতে ওসির স্ত্রী সরাসরি সামনে এসে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করায় ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি জিডি করেছেন।

এই বিষয়ে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমি বক্তব্য দিতে পারি না। তবে যা শুনেছি, ঘটনা সত্যি।’ তিনি আরও দাবি করেন, ওসির কারণে তিনি নিজেও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করে এএসআই শাহনাজ আক্তার বলেন, ‘এটা থানার অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে জিডির বিষয়ে যা শুনেছেন, তা সত্যি। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নেয়।’

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জিডি করার পর শাহনাজ আক্তারকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বদলি করে বানারীপাড়া থানায় পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন থানায় বদলি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আগৈলঝাড়া থানার ওসি মাসুদ খান। তিনি বলেন, ‘পুরো ঘটনাই গুজব। এসব গুজবের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আমি এখানে ১০ মাস ধরে চাকরি করছি। আমাকে বেকায়দায় ফেলার জন্য কিছু তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’

জিডি এবং বদলির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। থানার অভ্যন্তরীণ বিষয় বাইরে গেলে, যারা এসব করছে এবং সরকারি গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুরো বিষয়টি নিয়ে বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘এটা নিজেদের মধ্যে একটা ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা আমরা নিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত আছেন।’