শেষ চার ওভারে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৪০ রান, হাতে ছিল চারটি উইকেট। ম্যাচটি তখনো পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় আসেনি। তবে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রুবাই ইসলাম রিজন। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৬ রান যোগ করতেই শেষ চার উইকেট হারিয়ে লড়াইয়ে হেরে যায় আফগানিস্তান। এই নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে ৩৩ রানের ব্যবধানে যুব ওয়ানডে সিরিজের শুভ সূচনা করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ওমানের আল আমিরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত চার ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ২৫০ রান সংগ্রহ করে তারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৮ ওভার ২ বলে ২১৭ রানেই সব উইকেট হারিয়ে পরাজিত হয় আফগানিস্তান। এই জয়ের ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশের যুবারা।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে বড় ধরনের ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলীয় খতিয়ানে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই আউট হয়ে ফেরেন আবদুল্লাহ আল মুহি। তবে এই ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে ৬৮ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন জারিফ সিয়াম ও আলামিন হোসেন রনি। জারিফ ৫৩ বলে ৫০ এবং আলামিন ৪৬ বলে ২৬ রান করেন। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পতনের ফলে একপর্যায়ে ১১১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ দল।

সংকটময় সেই মুহূর্তে ষষ্ঠ উইকেটে ১১৭ রানের এক বিশাল জুটি গড়ে দলকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেন রাকিবুল হাসান ও আহসান আল মুমিন। উল্লেখ্য, যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে ষষ্ঠ উইকেটে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের জুটি। রাকিবুল হাসান ৭৮ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে মুমিন ৭০ বলে ৫৪ রান করেন। এই দুই তারকার অনবদ্য ব্যাটিংয়েই আড়াই শ রানের সংগ্রহ পূর্ণ করে বাংলাদেশ।

২৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান। তবে হামজা খানের অর্ধশতক তাদের ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল। একপর্যায়ে ১৬৮ রানে ৬ উইকেট হারালেও সপ্তম উইকেটে সোহেল খানের সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি গড়েন হামজা, যা আফগানদের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

কিন্তু এরপরই ম্যাচের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। ৪৭তম ওভারে পুনরায় আক্রমণে ফিরে দ্রুত দুই উইকেট তুলে নেন রুবাই ইসলাম রিজন। প্রথমে ২১ রান করা সোহেল খানকে আউট করার পর তিনি তুলে নেন অর্ধশতক করা হামজাকেও। হামজা ৭১ বলে ৫১ রান করেন। এর পরের ওভারে শেখ আতিকুর রহমান আরও একটি উইকেট নিলে বাংলাদেশের জয়ের পথ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

৪৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ইমরান মোহাম্মদিকে বোল্ড করে আফগানিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান রিজন। শেষ চার উইকেটের মধ্যে তিনটিই তার নামের পাশে যুক্ত হয়। পুরো ম্যাচে ৮ ওভার ২ বলে ৩৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন এই ডানহাতি পেসার।

যুব ওয়ানডেতে অভিষেক ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন রুবাই ইসলাম রিজন। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে যুব ওয়ানডে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে অভিষেকে বাংলাদেশের সেরা বোলিং রেকর্ডটি ছিল রিপন মণ্ডলের, যিনি ২০২১ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে শেখ আতিকুর রহমান ৩২ রানে ২ উইকেট নেন। চার ম্যাচের এই সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।