শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে সৃষ্টি হয়েছে কৃষিশ্রমিক সংকট। এটি মোকাবিলা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই যান্ত্রিকীকরণের নীরব বিপ্লবে কৃষকের সবচেয়ে বড় বন্ধু ও বিশ্বস্ত অংশীদার হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান। এসিআই অ্যাগ্রোবিজনেস, দ্য মেটাল প্রাইভেট লিমিটেড, আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ ও উই অ্যাগ্রো মেশিনারিজের মতো দেশের এই খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক, টেকসই ও সাশ্রয়ী কৃষি যন্ত্রপাতি দেশব্যাপী সরবরাহ করে দেশের কৃষি খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে। শুধু যন্ত্রপাতি বিক্রিই নয়, তারা নিশ্চিত করছে মাঠপর্যায়ের নিরবচ্ছিন্ন সেবাও, যা দেশের প্রান্তিক কৃষকদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়েছে।
সনাতন পদ্ধতিতে কৃষিকাজে অভ্যস্ত গ্রামীণ সমাজে ভারী ও দামি যন্ত্রপাতি সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকের হাতের নাগালে নিয়ে আসা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। তবে বাংলাদেশ সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলে ৭০ শতাংশ এবং অন্যান্য অঞ্চলে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নয়ন সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়ায় এ পথ সুগম হয়েছিল। সরকারের এই সুবিধার পাশাপাশি এখন দেশের শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রান্তিক কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।
বাংলাদেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে ভূমিকা রেখেছে—
এসিআই অ্যাগ্রোবিজনেস: জমি তৈরি থেকে শুরু করে ফসল কর্তন ও মাড়াই—কৃষির প্রতিটি ধাপে এসিআইয়ের রয়েছে আধুনিক যান্ত্রিক সমাধান। তাদের সরবরাহকৃত ‘সোনালিকা’ ট্রাক্টর এবং জাপানের ‘ইয়ানমার’ কম্বাইন হারভেস্টার কৃষকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত। তারা কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং ‘স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার’ অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত মেকানিক সেবা দিচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজ কিস্তিতে ঋণসুবিধাও নিশ্চিত করছে তারা।
দ্য মেটাল প্রাইভেট লিমিটেড: নব্বইয়ের দশক থেকে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির প্রসারে মেটালের বেশ পরিচিতি আছে। ‘টাফে’ ও ‘আইশার’ ট্রাক্টর দিয়ে তারা কৃষিতে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। বর্তমানে তারা হারভেস্টার ও সিডার মেশিনও বাজারজাত করছে। সারা দেশে বিস্তৃত ডিলার নেটওয়ার্ক এবং দ্রুততম মাঠপর্যায়ের সেবা তাদের বড় বৈশিষ্ট্য। তারা স্থানীয় মেকানিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ: দেশীয় প্রযুক্তিতে কৃষির আধুনিকায়নের পথিকৃৎ সিলেটের আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ। বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে তারা বাংলাদেশের মাটি ও কৃষকের সক্ষমতা অনুযায়ী নিজস্ব ডিজাইনে যন্ত্রপাতি তৈরি করছে। তাদের তৈরি সাশ্রয়ী মূল্যের পাওয়ার টিলার, মাড়াই কল ও সিডার প্রান্তিক কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় এর স্পেয়ার পার্টস সস্তা ও সহজলভ্য, যা বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় সাশ্রয় করছে।
উই অ্যাগ্রো মেশিনারিজ: বাজারে নতুন হলেও উদ্ভাবনী সমাধানের কারণে প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের আস্থা অর্জন করেছে। তারা ছোট, সাশ্রয়ী ও সহজে বহনযোগ্য মিনি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার এবং পটেটো ডিগার সরবরাহে জোর দিচ্ছে। তাদের মোবাইল সার্ভিসিং টিম মাঠে গিয়ে দ্রুত বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করে। ফলে ভরা মৌসুমে কৃষকের মূল্যবান সময় একেবারেই নষ্ট হয় না। এ ছাড়া আবেদীন, উত্তরণ, আরএফএলসহ বিভিন্ন কোম্পানি আছে। নতুন করে কৃষিপ্রযুক্তি খাতে অগ্রসর হচ্ছে ইস্পাহানি অ্যাগ্রো ও প্যারাগন।