বান্দরবানে এক মারমা তরুণীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগের মুখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্য চিং মার্মাকে গ্রেপ্তার করেছে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ। এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভুক্তভোগী তরুণীর করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অভিযান চালিয়ে তাকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
ঘটনাটি সামনে আসে শুক্রবার, যখন ভুক্তভোগী তরুণীর একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও বার্তায় তরুণীটি অভিযোগ করেন যে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শৈক্য চিং মার্মা তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। পরবর্তীতে তাকে বান্দরবানের সাইনি রিসোর্টে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, রিসোর্টের ভেতর থেকে চিৎকার ও চেঁচামেচির শব্দ শুনে পাশের শিশু পার্কে অবস্থানরত লোকজন এবং পথচারীরা সেখানে ভিড় করেন। এরপর বিষয়টি প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হলে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভুক্তভোগী তরুণী আরও জানান, অভিযুক্ত শৈক্য চিং মার্মা বান্দরবান বাজার এলাকার জমজম গলির সামনে বসবাস করেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বান্দরবান জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তার বাসায় অভিযান চালায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন শৈক্য চিং মার্মা। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এই স্পর্শকাতর বিষয়ে বান্দরবান জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মং শা প্রু মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ মুক্তকণ্ঠকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “অভিযুক্তকে তার বাসা থেকে থানায় আনা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।” অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এদিকে, এই ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।