বান্দরবান জেলা শহরে নিজের মালিকানাধীন রিসোর্টে এক নারীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।

পুলিশের গ্রেপ্তার করা ওই নেতার নাম শৈক্যসিং মারমা। তিনি এনসিপির বান্দরবান জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের বালাঘাটা সড়কের পাশে একটি পাহাড়ে শৈক্যসিং মারমার একটি রিসোর্ট রয়েছে। গতকাল দুপুরে ওই রিসোর্ট এলাকা থেকে এক নারীর আর্তনাদ ও কান্নার শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। শব্দ শুনে তারা রিসোর্টে গেলে ওই নারীকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান।

ভুক্তভোগী নারী স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ করেন যে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শৈক্যসিং মারমা তাঁকে ওই রিসোর্টে নিয়ে এসেছিলেন। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে বিয়ের কথা বললে শৈক্যসিং রাজি হননি এবং একপর্যায়ে তাঁকে জোর করে রিসোর্ট থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই করুণ কাহিনী শোনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ওই নারীকে দ্রুত পুলিশের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ জানান, ঘটনার কথা জানতে পেরে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং ওই নারীকে রিসোর্ট থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত বিবরণ নেওয়ার পর শৈক্যসিং মারমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই নারী নিজেই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত শৈক্যসিং মারমাকে আজ শনিবার আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই নারীকে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।

এদিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এনসিপির বান্দরবান জেলা কমিটির আহ্বায়ক মং সা প্রু চৌধুরী বলেন, “শৈক্যসিং মারমার বিষয়ে তাঁরা তদন্ত করে দেখছেন। শৈক্যসিং ও এনসিপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কেউ ষড়যন্ত্র করেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে শৈক্যসিং মারমার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”