সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন এক আহত রোগীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়, যার ফলে ইসিজি (ইসিজি) মেশিনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, এর আগে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। ওই সংঘর্ষে জীবু চৌধুরী নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে, সেখানেই তার ওপর পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে ও পুলিশি তথ্যানুসারে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে সাকিতপুর গ্রামের মুক্তার চৌধুরীর বাঁশ কাটতে গিয়েছিলেন জীবু চৌধুরী। সেই সময় একই গ্রামের জাহাঙ্গীর তাকে বাধা প্রদান করেন। এই বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে, যাতে জীবু চৌধুরী গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তার স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
অভিযোগ উঠেছে যে, ঘটনার খবর পেয়ে দিরাই সদরে অবস্থানরত জাহাঙ্গীরের ভাই আনহার সরদার কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। এরপর তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে চিকিৎসাধীন জীবু চৌধুরীর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এই আকস্মিক ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা সেখানে ভাঙচুর চালিয়ে চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় জরুরি বিভাগের একটি ইসিজি মেশিন, পানির কল, ওজন পরিমাপক যন্ত্র এবং চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত একাধিক বিছানাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. প্রশান্ত তালুকদার এ বিষয়ে বলেন, “সাকিতপুর গ্রামের সংঘর্ষে আহত এক রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় ইসিজি মেশিনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগামীকাল জানা যাবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, “সাকিতপুর গ্রামে বাঁশ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”