মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় সরকারি বরাদ্দের সার অন্য উপজেলায় পাচার করার চেষ্টার সময় একজনকে আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক শুনানিতে ওই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের সমেতপুর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

আদালত কর্তৃক জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হাবিবুর রহমান দৌলতপুর উপজেলা বাজারে অবস্থিত মেসার্স দীপু ট্রেডার্সের একজন সাব-ডিলার হিসেবে কর্মরত আছেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে টাঙ্গাইল জেলা থেকে আসা এক ক্রেতা দৌলতপুর বাজারের সাব-ডিলার হাবিবুর রহমানের দোকান থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে ১১ বস্তা সার ক্রয় করেন। এরপর সকাল ১০টার দিকে ওই সার নিয়ে যাওয়ার পথে সমেতপুর এলাকায় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সাব-ডিলার ও ক্রেতাকে আটক করেন। খবর পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেন এবং অভিযুক্ত সাব-ডিলার তাঁর অপরাধের কথা স্বীকার করেন।

পরবর্তীতে বেলা ১১টার দিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য জেলায় সার বিক্রি এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অপরাধে সাব-ডিলার হাবিবুরকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস।

পুরো অভিযানে দৌলতপুর থানার পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা আটক সাব-ডিলারকে উদ্ধার করতে, সার জব্দ করতে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। এই প্রক্রিয়ায় জব্দ করা ১১ বস্তা সার সেখানে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়।

এই বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস বলেন, “সরকারের সমন্বিত সার নীতি অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত ডিলার, সাব-ডিলার অথবা বিক্রেতা নির্ধারিত এলাকার বাইরে বিক্রি, স্থানান্তর বা মজুত করতে পারবেন না। কৃষকদের মধ্যে সারের সঠিক ও স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”