দুর্নীতি প্রতিরোধে সোচ্চার হতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে তরুণদের কেবল নিজেদের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করলেই চলবে না, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘ফিউচার বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথির capacity-তে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি এবং নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, “শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের ইতিবাচক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগাতে হবে।” একই সাথে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে, নাগরিকদের মধ্যে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুরক্ষিত থাকবে। তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে ইতিবাচক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে কাজে লাগানো গেলে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব হবে।

দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও সংগ্রামে তরুণদের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “বাংলাদেশে যত বড় বড় আন্দোলন হয়েছে, সেগুলোর নেতৃত্বে ছিলেন তরুণেরা। সামাজিক মর্যাদা, সমতা ও সমান সুযোগ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তরুণেরা বারবার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।”

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত চূড়ান্ত তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের অনেকেই ছিলেন তরুণ। এই প্রসঙ্গে তিনি তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অধিকার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তরুণদের এই শক্তি ও সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। অতীতের অর্জন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকেই নিতে হবে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে তরুণদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকার বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিদেশে গেলেও দেশে ফিরে এসে আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্বের হাল ধরতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নিজেদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশকে পিছিয়ে পড়ার অবস্থা থেকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত উদ্যোগ, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকল্প নেই।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, বিতর্ক এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তরুণদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি। সংসদীয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে তরুণেরা গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।

দুই দিনব্যাপী এই বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ সম্মেলনে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আসা দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ও তাৎপর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তরুণদের নেতৃত্বের সক্ষমতা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়ে চিন্তাভাবনার বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের এই সেশনে আরও বক্তব্য প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি–বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।