সুনামগঞ্জে পারিবারিক কলহ এবং মাদকের টাকা জোগাড়ের বিষয় নিয়ে ৭০ বছর বয়সী মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে নুরুল আলমকে (৪৬) আটক করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার কাইয়ারগাঁও মধ্যপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত রেজিয়া খাতুন (৭০) ওই গ্রামেরই বাসিন্দা এবং তিনি মৃত হাসান উদ্দিনের স্ত্রী ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্যানুসারে, শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে পরিবারের বাকি সদস্যরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। সেই সুযোগে নুরুল আলম ঘুম থেকে উঠে ঘরে রাখা একটি ধারালো দা দিয়ে তার মায়ের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন। রেজিয়া খাতুনের আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত জেগে ওঠেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্বজনদের দাবি, সেই মুহূর্তে নুরুল আলম সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় গ্রামবাসীদের জানান। এরপর গ্রামবাসী ও স্বজনরা মিলে নুরুল আলমকে ধরে পুলিশের হাতেe তুলে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহতের স্বজনদের ভাষ্যমতে, নুরুল আলম নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। মাদকের টাকা জোগাড় করার বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে তার মায়ের প্রায়ই তীব্র ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি হতো।
এই ঘটনার বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জোহাব আলী বলেন, “মাদকের টাকা জোগাড় করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নুরুল আলমের সঙ্গে তার মায়ের বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। শুক্রবার ভোরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “পুলিশ রেজিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।”