যৌন সহিংসতার বিস্তার রোধে পর্নোগ্রাফির ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। আগামী নভেম্বর মাস থেকে এই নতুন বিধিনিষেধসংবলিত আইনটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্টে শ্বাসরোধ করা, গলা চেপে ধরা কিংবা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যৌন সম্পর্কের (অজাচার) দৃশ্য প্রদর্শিত হয়, তা আগামী ৬ নভেম্বর থেকে প্রকাশ করা বা নিজের কাছে রাখা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে গণ্য হবে। এছাড়া, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি ১৬ বছরের কম বয়সীর ভূমিকায় অভিনয় করেন, তবে সেই ধরনের পর্নোগ্রাফিও এই আইনের আওতায় নিষিদ্ধ হবে।
২০২৫ সালের একটি সরকারি পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উক্ত পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, বর্তমানে জনপ্রিয় পর্নোগ্রাফি সাইটগুলোতে শ্বাসরোধের মতো সহিংস দৃশ্য অত্যন্ত সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্মের কাছে বাস্তব জীবনে এ ধরনের সহিংস আচরণ স্বাভাবিক বলে মনে হতে শুরু করেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এই পর্যালোচনার প্রধান ব্যারোনেস গ্যাবি বার্টিন বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই।’ তিনি আরও জানান, আইনের এই পরিবর্তন পর্নো ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সামগ্রিক সমাজব্যবস্থার কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেবে—বাস্তব জীবনে ক্ষতি করে, এমন চরম ও সহিংস দৃশ্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সরকারের উদ্যোগে পরিচালিত ওই পর্যালোচনায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কিশোর তার এক শিক্ষকের কাছে জানতে চেয়েছিল যে, যৌন সম্পর্কের সময় মেয়েদের গলা কীভাবে চেপে ধরতে হয়।
পর্যালোচনায় বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, বাস্তব জীবনে ইন্টারনেটে দেখা এই ধরনের আচরণের অনুকরণ ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে।
উল্লেখ্য যে, কারও সম্মতি ছাড়া শ্বাসরোধ করা (এমনকি মৃত্যু না হলেও) আগে থেকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। তবে ইন্টারনেটে এই ধরনের দৃশ্য প্রদর্শন করা এখন পর্যন্ত অবৈধ ছিল না।
গত এপ্রিলে পাস হওয়া অপরাধ ও পুলিশিং আইনের সংশোধনীতে এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এ ধরনের ভিডিও সংরক্ষণ করা, প্রকাশ করা বা ছড়িয়ে দেওয়া এখন থেকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, ইন্টারনেটে এই ধরনের পর্নোগ্রাফি প্রকাশ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনলাইনে কোনো কনটেন্ট আপলোড করা, পোস্ট করা কিংবা অন্য কারও কাছে পৌঁছে দেওয়াও এই অপরাধের আওতায় পড়বে।
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত ফোন, কম্পিউটার বা ক্লাউড স্টোরেজে এই ধরনের ছবি বা ভিডিও সংরক্ষণ করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। যেসব পর্নোগ্রাফিতে প্রাপ্তবয়স্করা ১৬ বছরের কম বয়সীর সাজে অভিনয় করেন, সেগুলো নিজের কাছে রাখলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এছাড়া, শ্বাসরোধ, গলা চেপে ধরা বা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথিত যৌন সম্পর্কের পর্নোগ্রাফি নিজের কাছে রাখলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ক্লেয়ার ম্যাকগ্লিন এর আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, সহজলভ্য এই পর্নো ভিডিওগুলো যৌন সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। তাই এই আইনটি পুরোপুরি কার্যকর করার সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।