দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন গুপ্ত এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর মতে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে লক্ষ্য করে এই অশুভ চক্র পরিকল্পনা করতে পারে। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার হরিশকুল বেগম হাসিবা উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেশ কয়েকটি ফলদ গাছের চারা রোপণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “কোনো অপশক্তি যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।” তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সারা দেশে সুষ্ঠুভাবে পূজা উদ্‌যাপন নিশ্চিত করার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাই মিলে কাজ করতে বদ্ধপরিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু হাসান খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান, তাঁর চাচাতো ভাই প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা পোখরাজ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। যখন এই ইউনিয়নে কোনো স্কুল ছিল না, তখন হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি অঙ্গীকার করেন যে, অবহেলিত এই অঞ্চলের রাস্তাঘাটসহ সব ধরনের উন্নয়নকাজ খুব শীঘ্রই ত্বরান্বিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আসন্ন দুর্গাপূজায় সারা দেশের প্রতিটি মন্দিরে ছাত্রদলকে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করতে হবে। রাত জেগে মন্দির পাহারা দিতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় হলে সাংগঠনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা, সাবেক অধ্যক্ষ মানবেন্দ্র দত্ত, বেগম হাসিবা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার পুত্রবধূ তাহমিনা আদনান, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম, কেপি উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি আবু শফিক খন্দকার মাসুদ, প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন রহমান আকবর ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম (নিরব)।

এরপর দোহার উপজেলার জয়পাড়া কলেজ ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন রুহুল কবির রিজভী। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ছাত্রদলকে দলবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজি চিহ্নিত করে সংগঠন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের কাতারে আসতে হবে এবং তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চর্চা গড়ে তুলতে হবে।