বিগ ব্যাশের অভিষেক মৌসুমেই নজরকাড়া পারফরম্যান্সের মাধ্যমে হোবার্ট হারিকেন্সের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলেন বাংলাদেশের লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। সেই অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ দলের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। এই দুর্দান্ত ফর্মের ধারাবাহিকতায় আরও এক মৌসুমের জন্য রিশাদকে ধরে রেখেছে হোবার্ট কর্তৃপক্ষ। এবারের আসরে স্পিন আক্রমণে তার সঙ্গী হবেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ তারকা বোলার অ্যাডাম জ্যাম্পা।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রিশাদকে পুনরায় দলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোবার্ট হারিকেন্স। বিগ ব্যাশের আসন্ন ষোড়শ আসরের জন্য এক বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ২৪ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি ক্রিকেটার। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো মৌসুম নয়, আপাতত প্রথম আটটি ম্যাচের জন্য রিশাদকে পাওয়া যাবে।
বিগ ব্যাশে প্রথমবার খেলার সুযোগ পেয়েই নিজের জাত চিনিয়েছেন রিশাদ। গত মৌসুমে হোবার্টের হয়ে ১২টি ম্যাচে অংশ নিয়ে মোট ১৫টি উইকেট শিকার করেন তিনি। তার বোলিং গড় ছিল ২০ দশমিক ৮৬ এবং ইকোনমি রেট বা ওভারপ্রতি রান খরচ ছিল ৭ দশমিক ৮২। ব্যক্তিগত সেরা বোলিং হিসেবে ২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার পাশাপাশি মৌসুম শেষে হোবার্টের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন এই তরুণ স্পিনার।
রিশাদের এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর তাকে আবারও দলে পেতে আগ্রহী ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে গত সেপ্টেম্বরে মেলবোর্ন রেনেগেডস ছেড়ে দুই বছরের চুক্তিতে হোবার্টে যোগ দেন অ্যাডাম জ্যাম্পা। অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ লেগস্পিনার দলে আসায় পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এলেও রিশাদকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেনি হোবার্ট। শেষ পর্যন্ত দুই লেগস্পিনারকেই রেখে স্পিন আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
রিশাদের ফিরে আসার প্রবল আগ্রহ নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন হোবার্টের হাই পারফরম্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্যালিয়ান বিমস।
তিনি বলেন, ‘রিশাদ আমাদের স্পষ্ট জানিয়েছিল, গত মৌসুমে হোবার্টে সময়টা সে দারুণ উপভোগ করেছে এবং আবারও ফিরতে চায়। বিষয়টি আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
গত মৌসুমে রিশাদের নৈপুণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিমস। তার মতে, প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে নেমে হোবার্টের প্রতিটি ম্যাচে অংশ নেওয়া এবং দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়া রিশাদের সামর্থ্যেরই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা হোবার্ট কর্তৃপক্ষকে মুগ্ধ করেছে।
রিশাদ ও জ্যাম্পাকে একসঙ্গে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী বিমস। তার বিশ্বাস, দুই লেগস্পিনারের বোলিংয়ে ভিন্নতা থাকায় প্রতিপক্ষ দল এবং উইকেটের ধরন অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজানোর বাড়তি সুযোগ পাবে হোবার্ট হারিকেন্স।
বিমস বলেন, ‘জ্যাম্পা দীর্ঘদিন ধরে সাদা বলের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। অন্যদিকে গত মৌসুমেই আমরা দেখেছি, মাঝের ওভারগুলোতে রিশাদ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। দুজনকে একসঙ্গে পাওয়া আমাদের বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্যও হোবার্টের দলে সুযোগ পেয়েছিলেন রিশাদ। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ব্যস্ততার কারণে সেবার খেলতে পারেননি তিনি। তবে তার পরবর্তী মৌসুমে অভিষেকেই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। সাকিব আল হাসানের পর এক দশকেরও বেশি সময়ের ব্যবধানে বিগ ব্যাশে খেলা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়েন রিশাদ হোসেন।
এবারের আসরে হোবার্টের দলে রিশাদ ছাড়াও রয়েছেন টিম ডেভিড, নাথান এলিস, বেন ম্যাকডারমট, মিচেল ওয়েন ও বিউ ওয়েবস্টারের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে রিশাদের পাশাপাশি দলে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাদা বলের অধিনায়ক শাই হোপ।
আগামী ১৭ ডিসেম্বর ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিগ ব্যাশের নতুন মৌসুমের যাত্রা শুরু করবে হোবার্ট হারিকেন্স।