আবারও বিগ ব্যাশে রিশাদ হোসেন। অস্ট্রেলিয়ার টি–টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশের ১৬তম আসরের জন্য বাংলাদেশি লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে দলে ধরে রেখেছে হোবার্ট হারিকেন্স। আজ ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পক্ষ থেকে এ খবর জানানো হয়।

হোবার্ট এবার অস্ট্রেলিয়ার মূল লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকেও দলে নিয়েছে। অর্থাৎ আগামী মৌসুমে হোবার্টে জাম্পা–রিশাদ জুটি দেখা যাবে।

হোবার্টের হয়ে অভিষেক মৌসুমেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন রিশাদ। গত আসরে ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন এই লেগ স্পিনার। ২০.৮৬ গড় ও ৭.৮২ ইকোনমি রেটে বোলিং করা রিশাদের সেরা পারফরম্যান্স ছিল ২৬ রানে ৩ উইকেট। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে মৌসুম শেষে হোবার্ট হারিকেন্সের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন।

রিশাদকে ধরে রাখতে তাঁর নিজের আগ্রহও বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন হোবার্ট হারিকেন্সের হাই পারফরম্যান্স বিভাগের ম্যানেজার সালিয়ান বিমস।বিমস বলেন, ‘গত মৌসুমে হোবার্টে সময়টা যে রিশাদের খুব ভালো কেটেছে এবং সে ফিরতে চায়, সেটি আমাদের কাছে স্পষ্ট করেছিল। বিষয়টি আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

জাম্পাকে দলে নেওয়ার পর হারিকেন্সের খেলোয়াড় তালিকায় কিছু পরিবর্তন এলেও রিশাদের মতো মানসম্পন্ন একজন ক্রিকেটারকে ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তারা।

বিমসের ভাষায়, ‘আমাদের দল গঠনের পরিকল্পনায় অ্যাডাম জাম্পাকে যুক্ত করার পর কিছুটা পরিবর্তন এসেছিল। তবে রিশাদের মতো মানসম্পন্ন একজন খেলোয়াড় যখন হোবার্টে ফেরার ব্যাপারে এতটা আগ্রহী, তখন তাকে ফেরানোর সব সম্ভাবনাই আমরা খতিয়ে দেখতে চেয়েছি।’

রিশাদের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতারও প্রশংসা করেছেন হোবার্টের এ কর্মকর্তা। প্রথমবারের মতো বিগ ব্যাশে খেলতে এসে প্রতিটি ম্যাচে অংশ নেওয়া এবং দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়াকে তাঁর সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

বিমস বলেন, ‘গত মৌসুমে রিশাদ আমাদের হয়ে অসাধারণ খেলেছে। প্রথমবার বিগ ব্যাশে এসে প্রতিটি ম্যাচ খেলা এবং দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়া তাঁর দক্ষতা ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তুলে ধরে।’

জাম্পা ও রিশাদের বৈশিষ্ট্য যে আলাদা, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন বিমস। তাঁর মতে, দুজন কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ধরন অনুযায়ী বোলিং পরিকল্পনায় বাড়তি বিকল্প এনে দেবেন।

তিনি বলেন, ‘জাম্পা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম সেরা সাদা বলের বোলার। আর গত মৌসুমে আমরা দেখেছি, মাঝের ওভারগুলোতে রিশাদ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। আমাদের স্কোয়াডে দুজনকে পাওয়ায় বোলিং আক্রমণে অনেক বেশি নমনীয়তা আসবে এবং নতুন মাত্রা যোগ হবে।’

বিগ ব্যাশের ১৪তম আসরের ড্রাফটে রিশাদকে প্রথমবারের মতো দলে নিয়েছিল হোবার্ট। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ব্যস্ততার কারণে সেবার দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া হয়নি তার। পরে গত মৌসুমে বিগ ব্যাশে অভিষেক হয় রিশাদের, আর প্রথম সুযোগেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন।